ডিজিটাল, 22 সেপ্টেম্বর, কলকাতা:

সিরিয়াল বা শস্য, ডাল, তেলবীজ, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ এবং আলু’র মতো পণ্যকে অত্যাবশ্যক জিনিসপত্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া’র সংস্থান সংশ্লিষ্ট অত্যাবশ্যক পণ্য (সংশোধন) আইন, ২০২০ আজ রাজ্যসভায় পাশ হয়েছে। এর আগে, কেন্দ্রীয় উপভোক্তা, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শ্রী দানভে রাওসাহেব দাদারাও, গত ৫ই জুন, ২০২০ জারী করা অধ্যাদেশের পরিবর্ত হিসাবে, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। বিলটি লোকসভায় ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ অনুমোদিত হয়।

অত্যাবশ্যক পণ্য (সংশোধনী) আইন,২০২০- এর লক্ষ্য হল, বেসরকারী লগ্নীকারীদের ব্যবসায়িক কাজকর্মে অনাবশ্যক খবরদারি বা হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দূর করা। উৎপাদন, মজুত, বহন , বন্টন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার ফলে আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হবে এবং তা কৃষিক্ষেত্রে বেসরকারী লগ্নী বা বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকেও আকৃষ্ট করবে । এটি কোল্ড স্টোরেজে বিনিয়োগ এবং খাদ্য সরবরাহ চেইনের আধুনিকীকরণেও সহায়তা করবে।

সরকার, নিয়ন্ত্রক পরিবেশের উদারীকরণের পাশাপাশি গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন। সংশোধনীতে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে কৃষিজ খাদ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে কিছু নিয়ন্ত্রণের সংস্থান করা হতে পারে। তবে, কৃষিতে বিনিয়োগকারীরা যাতে নিরুৎসাহিত না হন, সেজন্য অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট মজুত ও বন্টনে দাম নির্ধারণ এবং রফতানিকারীর পণ্য চাহিদা — এ জাতীয় বিষয় এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বাইরে থাকেবে ।

আজ রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হওয়ার আগে, এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টণ প্রতিমন্ত্রী শ্রী দানভে রাওসাহেব দাদারাও বলেন যে, উপযুক্ত রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে কৃষিজ পণ্যের অপচয় রোধ করতেও এই সংশোধনী প্রয়োজন । তিনি বলেন, এই সংশোধনী শুধু কৃষকদের মধ্যে নয়, উপভোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্যও একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে, যা অচিরেই আমাদের দেশকে স্বাবলম্বী করে তুলবে। তিনি আরো বলেন যে, এই সংশোধনী কৃষিক্ষেত্রে সামগ্রিক পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা জোরদার করবে। সরকার কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর মাধ্যমে এই আইন সেই লক্ষ্যপূরণেও সহায়তা করবে ।

Pib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *