১৬ সেপ্টেম্বর, ওয়েব ডেস্ক, কলকাতা :

করোনা মহামারীর জেরে দুর্গাপুজো কিভাবে হবে তা নিয়ে আপামর বাঙালির মনে একটা প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। সেই প্রশ্ন চিহ্নকে সরিয়ে দিতে এবং দুর্গাপুজোকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে “ফোরাম ফর দুর্গোৎসব।” এক সাংবাদিক সম্মেলনে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব এর সভাপতি কাজল সরকার ও সম্পাদক শাশ্বত বসু এ কথা জানান। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফোরাম ফর দুর্গোৎসব পরিচালিত রক্তদান শিবির সম্পর্কে সাংবাদিক বৈঠক হয়। থিম হলো “মায়ের জন্য রক্তদান”। সম্পাদক শাশ্বত বসু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এর নির্দেশে এই করোনা আবহে বাংলায় রক্তের যে আকাল তৈরি হয়েছে তার জন্য তারা এই রক্তদানের আয়োজন করেছেন। তারা প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে রক্তদানের আয়োজন করেন, কিন্তু এবছর তা সম্ভব হয়নি। লকডাউন এর সময় থেকেই এই সংগঠন বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে আসছেন। এই আবহে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যারা তারা হলেন মৃৎশিল্পী । তারা মহালয়ার দিন ৭০ জন কুমারটুলির মৃৎশিল্পীর হাতে চার হাজার টাকা করে তুলে দেবেন। এছাড়া লকডাউন এর সময় বিভিন্ন ভাবে তারা বাংলার মৃৎ শিল্পীদের পরিবারদের সাহায্য করেছেন। রবিবারের রক্তদান শিবির সরকারি গাইডলাইন মেনে করা হবে বলে জানানো হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে। দুর্গাপুজো সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে তাদের একটি বৈঠক ঠিক হয়েছে। সেই বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সেই ভাবেই তারা এবারের তাদের সঙ্গে জড়িত পূজা কমিটিগুলিকে জানিয়ে দেবেন। এবারের পুজো যে তাদের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ সে কথা বারবার উঠে আসে শাশ্বত বসুর কথায় এবং এবারের পুজোকে তারা সফল করবেন তাও বারবার করে বলা হয়। স্বাস্থ্যবিধি, সেনিটাইজেশন, সামাজিক দূরত্ব সহ বিভিন্ন গাইডলাইন নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন পূজা কমিটির সাথে তাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়। খোলামেলা প্যান্ডেল, আলোর চাকচিক্য কম করা সহ বহু বিষয় উঠে আসে সেই বৈঠকে। শাশ্বত বাবু বলেন, এই করোনা আবহে অর্থনীতি যেভাবে ধাক্কা খেয়েছে তাতে দুর্গাপুজো কিছুটা হলেও মলম লাগাতে পারে। কারণ কলকাতার দুর্গাপুজো সাথে অর্থনীতির কিছুটা অংশ জড়িয়ে আছে। যে সমস্ত পূজা প্যান্ডেলে ভিড় বেশি হয়, সেখানে যাতে অল্প অল্প করে দর্শনার্থী ঢোকানো হয় সেই ব্যাপারটিও তুলে ধরেন সম্পাদক শাশ্বত বসু। করোনা আবহে পূজোকে সফল করতে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব যে কোমর বেঁধে নামবে সে কথা তার কথায় স্পষ্ট। তবে গাইডলাইন কি হবে তা বোঝা যাবে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে তাদের চূড়ান্ত বৈঠকের পরই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *