ওয়েবডেস্ক,কলকাতা:

বয়স যদি কোনো মানুষের শৈশবের স্মৃতি গুলো পূরণ করতে বাধা হয় তাহলে সে কথাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করল যাদবপুর বিদ্যাপীঠ এর “৭৮ সালের প্রাক্তনীরা”।
এই করোনা আবহের ফলে সকলের মন ভারাক্রান্ত। কেউ খুঁজছে কথা বলার লোক, কেউ বা একটু জমাটি আড্ডা । সম্প্রতি ছোট করে রি-ইউনিয়ন বা পুনর্মিলন হয়ে গেল সেই ৭৮ সালের প্রাক্তনীদের। যার সম্পূর্ণ ভার ছিল ওই ব্যাচের লড়াকু মনোভাবের মানুষ সুপ্রিয় ব্যানার্জির ওপর।
উক্ত ব্যাচে অনেকেই আছেন যারা মাঝে অনেকবার একসঙ্গে দেখা করেছেন, আনন্দ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে এই সাক্ষাৎ যে তাদের সম্পর্ককে আরো মধুর করে তুলেছে তা বলাই বাহুল্য। এবং সেটার জন্য অবশ্যই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী করোনা মহামারী।
এই রি-ইউনিয়ন এর এটা পোশাকি নাম তারা দিয়েছেন,—-“আনলক সেভেন্টি এইট।” তার একটি ট্যাগলাইন হলো ক্লাসরুম অ্যাডভেঞ্চারাস অর্থাৎ স্কুলে থাকাকালীন যারা কিনা অ্যাডভেঞ্চারকে পছন্দ করতেন, নতুন কিছুকে খোঁজার চেষ্টা করতেন। এবং সেটি খুঁজতে গিয়ে যে অভিভাবক বা স্কুল শিক্ষক শিক্ষিকার কাছে শাস্তি পাননি সে কথা একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না সকলে।


সুশোভন দত্ত ঐ ব্যাচের অন্যতম। তার কথায় “বয়স হলেও স্মৃতির পাতা থেকে ওই দিন গুলো একেবারে মুছে যায়নি । বর্তমানে অনেক বন্ধু আছেন যারা বিদেশে থাকেন। আমাদের একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। তবে দুধের স্বাদ ঘোলে না মিটিয়ে সামনাসামনি একটু ছোট করেই আমরা আজকের এই অনুষ্ঠানটি করলাম।”
“আমরা যখন ছোট ছিলাম একদিন বন্ধুদের সঙ্গে না দেখা হলেই মনটা কেমন খারাপ লাগতো। বর্তমানের বন্ধুত্বে সোশ্যাল মিডিয়ার কিছুটা ছায়া পড়েছে। দেখা না হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা আদান-প্রদান হয়ে যায়, তবে সামনা সামনি দেখা হবার যে আত্ত্বিক সুখ সেটি হয়তো সেখানে পাওয়া যায় না”, বললেন পার্থসারথি ভৌমিক।
গত ১৬ ই আগস্ট ২০২০ দেশ যখন দীর্ঘ লকডাউন এরপর করোনা মহামারীর আনলক পর্বের দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, তখনই অন্যতম উদ্যোক্তা সুপ্রিয় বাবু এই ডেয়ারডেভিল নামটি ঠিক করলেন।
“মানুষের জীবনে স্কুল জীবনের প্রাধান্য অনেক বেশি। স্কুল জীবন যারা উপভোগ করতে না পেরেছে তারা কোন জীবন ঠিকঠাক উপভোগ করতে পারবে না”—- মত সুবীর ভট্টাচার্য’র। তিনি বলেন “ভার্চুয়াল গল্পগুজব এবং সামনাসামনি গল্পগুজব দুটোর মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে । বর্তমান যুগে বেশিরভাগ মানুষ আত্মকেন্দ্রিক, তার জন্য কিছুটা হলেও আমাদের সমাজ দায়ী”। ঠিক একই মত দিলেন সন্দীপ কুমার সিনহা।
“ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে বন্ধুবান্ধব খেলাধুলা এগুলো তো থাকতেই হবে এবং এই বন্ধুত্বের যে সম্পর্ক তা গড়ে ওঠে স্কুল জীবন থেকে। আমরা যখন পড়তাম তার থেকে প্রায় ৫০ টি বছর পার করে এসেছি। স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা এই শব্দগুলো আমাদের সময় ছিল না বললেই হয়”— কিছুটা ম্লান কণ্ঠে বললেন সুস্মিতা চক্রবর্তী।
“আজকের এই অনুষ্ঠান কিছুটা হলেও নিজেদের সেই শৈশব জীবনকে খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। বর্তমানের এই মেলামেশা, বন্ধুত্ব সব কিছর উপর কিছুটা নজরদারি চালাচ্ছে পিতা মাতা। ফলে ছাত্রছাত্রীরা বন্ধুত্ব করলেও মেন্টেইন করছে তাদের স্ট্যাটাস”। মৃনাল গুহের সাথে একই গলায় সুর মেলালেন জয়দীপ সরকার।

অনুষ্ঠানের ছিল না কোন আড়ম্বর, ছিল না সেই অতি রকমের বিলাসিতা। তবে এইসব কিছু না থাকা সত্ত্বেও নিজেদেরকে একটা মুক্ত হাসির মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন ওরা। মনের যত দুঃখ কষ্ট সবকিছুকে এই কয়েক ঘণ্টার জন্য দূরে ঠেলে রেখেছিল “আনলক সেভেন্টি এইট।” কিছু বন্ধুবান্ধব বিদেশে এবং কিছু বন্ধুবান্ধব কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও তারা যে কোন কারণের জন্য আসতে পারেননি, সেই সম্পর্কে জানান সুপ্রিয় ব্যানার্জি। এক কথায় বলা যায় এই সুপ্রিয় ব্যানার্জি হাত ধরে “আনলক সেভেন্টি এইট” রিইউনিয়নের এক অন্যতম ‘নায়ক’ হতে চলেছে ভবিষ্যতে। তাদের ইচ্ছা যে তারা বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমূলক কাজের দৃষ্টান্তও রাখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *