ডিজিটাল ,1 অক্টোবর, দেবাঞ্জন দাস: বাঙালি তথা উৎসবপ্রেমী মানুষের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো দুর্গাপুজো। মেরেকেটে কুড়ি দিন মতন বাকি। তার আগে চলছে শপিং, খাওয়া-দাওয়া। এছাড়া শপিংমলেও টুকটাক ঘুরে দেখা চলতে থাকে।

শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা। শপিং করার নাম শুনলেই সবাই বলতে থাকেন কবে যাবো ধর্মতলায়? কিন্তু গতকালের ধর্মতলা চত্বর অন্যান্যবারের থেকে বেশ কিছুটা বেমানান ছিল। সাধারণ নিত্যযাত্রীদের ভিড় ছিল ঠিকই, কিন্তু কেনাকাটা করার সেই হিড়িক এবার আর দেখা যাচ্ছে না । সবটাই অবশ্য করোনার খেলা।

বারুইপুরের বাসিন্দা সুরেশ কর্মকার, পেশায় সরকারি কর্মচারী। কথা বলে জানা গেল তিনি তার অফিসের জন্য রোজই ধর্মতলার উপর দিয়ে যান। প্রতিবছর পরিবার নিয়ে ধর্মতলাতে মার্কেটিং করতে আসেন। কিন্তু এবছর করোনা মহামারীর জন্য মার্কেটিং এ ভাঁটা পড়েছে। পরিবার কিছুটা হলেও গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রথমত; লোকাল ট্রেন বন্ধ, পরিবার নিয়ে আসতে হলে বাসে এবং মেট্রোরেলই ভরসা। বাসে যে ভিড় তাতে পরিবারকে সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিতে নারাজ সুরেশবাবু। তিনি কথায় জানা গেল, করোনার জেরে দৈনন্দিন খরচা আগের থেকে অনেক বেড়ে গেছে। ফলে এবারের পুজোর কেনাকাটা তেমনভাবে জোর দিয়ে করতে পারছেন না তিনি। ছেলেকে আর মেয়েকে তো কিছু দিতে হবে। তাই ওদের জন্য কিছু জামাকাপড় ও জুতো নিয়ে যাচ্ছেন, তবে জানেন না পছন্দ হবে কিনা। পুজোতে কতটা পরিবারকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

নিউ মার্কেটের পাশে অক্সিডাইস গয়না নিয়ে ফুটপাতে একটি দোকান শামীম’এর। হতাশার সুর শোনা গেল শামীমের গলায়, ——-” দাদা এবারের বাজার একেবারে খারাপ, যা একটু আধটু লোক হচ্ছে কিন্তু সেভাবে লাভের মুখ দেখতে পারছিনা। অন্যান্যবার অনেক বেশি করে মাল তুলি কিন্তু এবার কেনা দামি ও ঠিকঠাক উঠছে না। এই মহামারী সবকিছুই শেষ করে দিয়ে গেল। আর তো দিন কুড়ি আছে, দেখা যাক কতটা ব্যবসা করতে পারি।”

যে ধর্মতলা নিউ মার্কেট চত্বরে পুজোর আগে মার্কেটিং এর ফলে মানুষ হাঁটতে গিয়ে বারবার একে অপরের সাথে ধাক্কা খেতেন, সেইখানেই একটু সতর্ক হয়ে মানুষ চলাফেরা করছে যাতে একে অপরের গায়ে ধাক্কা না লাগে। যেখানে পুজোর আগে শপিংমলে ঢুকতে মানুষকে লাইন দিতে হতো ঠিক সেখানেই শপিংমলে কজন মানুষ ঢুকেছেন সেটা হাতে গুনে বলা যাবে।

পুজোর শপিং কিছুটা হলেও ডামাডোলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সেটা বলাই বাহুল্য । তবে আগামী যে কটা দিন রয়েছে তাতে মানুষ কিভাবে শপিংয়ের জন্য ভিড় করে সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *