৩০ নভেম্বর, ২০২০:
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বারাণসীতে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে বারানসী – প্রয়াগরাজ শাখায় আজ ছয়লেনের রাস্তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, কাশীর সংযোগ ব্যবস্থা এবং সৌন্দর্যায়ন যেভাবে ঘটানো হচ্ছে তা ব্যতিক্রমী। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফ্লাইওভার তৈরির ফলে বারানসীকে ঘিরে যানজট অনেকটাই কমবে। তিনি বলেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। সারা বছর ধরে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটানো পাশাপাশি হিমঘর তৈরি সহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় তার সুবিধা মিলবে। এজন্য এক লক্ষ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন সরকারি সহায়তা এবং আধুনিক পরিকাঠামোর সুযোগ মেলায় কৃষকরা যথেষ্ট উপকৃত হয়েছেন। কৃষকদের আয় বাড়াতে দু’বছর আগে চান্দৌলিতে কালো ধানের উৎপাদন শুরু হয়েছিল। গতবছর প্রায় ৪০০ জন কৃষককে নিয়ে একটি কৃষক কমিটি গঠন করা হয়। কৃষকরা যেখানে সাধারণ চাল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পেরেছে সেখানে কালো চাল তিনশো টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই প্রথম ওই চাল ৮০০ টাকা কেজি দরে অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের কৃষি পণ্যের সারাবিশ্বে সুখ্যাতি রয়েছে। কৃষকদের একে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, নতুন কৃষি সংস্কার নীতি কৃষকদের বিভিন্ন দিক খুলে দেবে এবং এর পাশাপাশি তাঁদের আইনি সহায়তা দেবে। তবে যদি কেউ পুরনো সংস্কার নিয়ে থাকতে চান সেই ব্যবস্থাও থাকছে। কিষান মান্ডির বাইরে কোনরকম আদান-প্রদান হলে ক্ষুদ্র কৃষকরা এখন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন। তিনি বলেন, সরকার নীতি আইন এবং বিধি তৈরি করেছে। এ বিষয়ে তিনি বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, কৃষকদের মধ্যে অহেতুক বিভ্রান্তের সৃষ্টি করা হচ্ছে। কৃষকদের নামে আগে অনেক কিছু বড় মাপের প্রকল্পের ঘোষণা করা হতো, কিন্তু তা কৃষকদের কাছ পর্যন্ত পৌঁছতে না। এক টাকা বরাদ্দ করা হলে কৃষকরা পেত মাত্র ১৫ পয়সা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ইউরিয়া নিয়ে কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে। কৃষকরা এখন যথেষ্ট পরিমাণে ইউরিয়া পাচ্ছে। স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মেনে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের পরিমাণ আগের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন ২০১৪ সালের আগে পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ডাল সংগ্রহ করা হতো। গত পাঁচ বছরে এর পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালের পূর্বে পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছিল দু লক্ষ কোটি টাকার। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে ৫ লক্ষ কোটি টাকার। বিগত পাঁচ বছরে গম চাষীরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে গম বিক্রি করে তিন লক্ষ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন।

বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির মাধ্যমে সরকার অর্থ সংগ্রহ করে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করছে বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যেসব রাজ্যে বিরোধী দল রয়েছে তারা রাজনৈতিক স্বার্থে কৃষকদের এই প্রকল্পের সুযোগ গ্রহণ করতে না দিয়ে তাঁদের বঞ্চিত করছেন। তিনি বলেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ কোটি কৃষক পরিবারকে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত এক লক্ষ কোটি টাকা কৃষকদের জন্য ব্যয় করা হয়েছে।
সুত্র ও ছবি: পি আই বি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *