গত ১২ জানুয়ারী দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের অধীনে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জোয়ানরা দায়িত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করে, আবারও চোরাকারবারীদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে ৪.৩৩২ কেজি রূপার অলঙ্কার সহ ১ জন চোরাকারবারীকে ধরেছে। উদ্ধার হওয়া রূপা ও মোটর সাইকেলের আনুমানিক মূল্য ২,৮২,৫৭৩/- টাকা। চোরাকারবারী উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সীমান্ত চৌকি হাকিমপুর এলাকা থেকে এই রূপার গয়না ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করছিল।

বাইকের হেডলাইটে লুকিয়ে পাচার করত চালাক চোরাকারবারি।

সূত্র মারফত খবর পেয়ে বিএসএফ-এর সীমান্ত চৌকি হাকিমপুর, ১১২ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা সতর্ক ছিল, একটি সন্দেহভাজন লাল রঙের পালসার মোটরসাইকেল দেখতে পান যা স্বরূপদা বাজার থেকে তারালি গ্রামের (সীমান্ত গ্রাম) দিকে যাচ্ছিল যখন জওয়ানরা তল্লাশির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল আরোহীকে থামানোর চেষ্টা করলে চোরাকারবারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রস্তুত জোয়ানরা কোনো সুযোগ না দিয়ে ওই চোরাকারবারীকে ধরে ফেলে। বিএসএফ কর্মীরা তল্লাশি করলে মোটরসাইকেলের হেডলাইটে তৈরি ইম্প্রোভাইজড ক্যাভিটি থেকে তিনটি ছোট প্লাস্টিকের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়, যেখান থেকে ৪.৩৩২ কেজি রূপার গয়না উদ্ধার করা হয়। জোয়ানরা তিনটি প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাচারকারীকে হেফাজতে নেয়। গ্রেফতারকৃত পাচারকারীর নাম সাহাবুদ্দিন গাজী, বয়স – ২৩ বছর, গ্রাম – তারালি (উত্তরপাড়া), পোস্ট অফিস – হাকিমপুর, থানা – স্বরূপনগর, জেলা – উত্তর ২৪ পরগণা।

জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত চোরাকারবারী সাহাবুদ্দিন গাজী জানায়, সে গত কয়েকদিন ধরে চোরাকারবারী হিসেবে কাজ করে আসছিল। গত ১২ জানুয়ারি সকালে মনি সরদার (গ্রাম- দত্তপাড়া, ডাকঘর- বিথারি হাকিমপুর, থানা- স্বরূপনগর) থেকে সে এসব রুপার গহনা নিয়েছিল। বিএসএফ ডিউটি ​​লাইন পার হওয়ার পর তারালী গ্রামের বাসিন্দা কামাল সরদারের বাড়িতে সেগুলো দেওয়ার কথা ছিল। এই চোরাচালানের জন্য সে ১০০০/- টাকা পেত।

গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারী ও জব্দকৃত রুপার গহনা পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য কাস্টম অফিস তেঁতুলিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাবলিক রিলেশন অফিসার, দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার ১১২ ব্যাটালিয়নের কৃতিত্বের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন যেখানে তারা ১ জন চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করে এবং ৪.৩৩২ কেজি রূপার গহনা বাজেয়াপ্ত করে চোরাচালানের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করেছে। তিনি বলেন যে ডিউটিতে থাকা তার জওয়ানদের সতর্কতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। অফিসার স্পষ্ট করে বললেন, তার জোয়ানদের চোখ থেকে কিছুই লুকানো যাবে না। তিনি আরো বলেন, চোরাচালান সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিতে তার একটি চমৎকার টিম রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *