ডিজিটাল; ৮ ডিসেম্বর: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের অধীনস্থ বিজ্ঞান ও কারিগরি গবেষণা পর্ষদের জগদীশচন্দ্র বসু জাতীয় ফেলো অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। খড়্গপুর আইআইটি-র এই অধ্যাপক তাঁর গবেষক দলের সঙ্গে ‘কোভির‍্যাপ’ নামে একটি বিশেষ ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। এখানে নিউক্লিক অ্যাসিডের সাহায্যে কেউ কোভিড সংক্রমিত কিনা তা সহজেই শনাক্ত করা যায়। অধ্যাপক চক্রবর্তীর এই প্রযুক্তিটি বিভিন্ন সংস্থাকে হস্তান্তরিত করা হয়েছে যাতে তারা সহজেই কোভিড নির্ণায়ক কিট তৈরি করে এই রোগের মোকাবিলা করতে পারে।

অধ্যাপক চক্রবর্তীর আরও একটি উদ্ভাবন হল রক্তের শর্করা, হিমোগ্লোবিন, ক্রিয়েটিনিন এবং কোলেস্টেরল সহ লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষার জন্য বিশেষ ধরনের স্মার্ট ফোন-ভিত্তিক অ্যাপ। এক্ষেত্রে আঙুল ফুটো করে রক্ত নিয়ে সেই রক্ত একটি পেপার স্ট্রিপের ওপর রাখলেই সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলি করা সম্ভব। এর ফলে, তৃণমূল স্তরে সংক্রমিত নয়, এ ধরনের অসুখ নির্ধারণ করতে সুবিধা হবে। মানুষের মুখে ক্যান্সার হয়েছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য একটি ভ্রাম্যমান যন্ত্রের উদ্ভাবন করেছে এই গবেষকের নেতৃত্বাধীন দল। উদ্ভাবিত এই যন্ত্রের মাধ্যমে মুখের মধ্যে কোষকলার মাধ্যমে রক্তের প্রবাহের হারের সাহায্যে ক্যান্সার হয়েছে কিনা সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়।

অধ্যাপক চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন গবেষক দলের আরও একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার হল বিদ্যুৎ-রসায়ন সেন্সরের সাহায্যে রক্তের বিভিন্ন উপাদান নির্ধারণ করা। এছাড়াও, বর্তমান যুগে সবথেকে উদ্বেগজনক সমস্যাটিও শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গবেষক দল একটি পেপার কিট উদ্ভাবন করেছে। ইদানিংকালে রোগ নিরাময়ের জন্য নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে রোগীর শরীরে আর অ্যান্টিবায়োটিকগুলি কাজ করে না। ফলে, চিকিৎসকদের যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। উদ্ভাবিত পেপার কিটের সাহায্যে ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক রোগীর শরীরে কাজ করবে কিনা তা নির্ধারণ করা সম্ভব।

গবেষক দলের আরও একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন হল অনুঘটকমুক্ত পদ্ধতিতে রক্তাল্পতা নির্ধারণ। এক্ষেত্রে একটি ভিজে কাগজের ওপর লোহিত রক্ত কণিকা দিয়ে কারোর রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করা সম্ভব। এইভাবে স্বল্প মূল্যের বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও, উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলি মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাগুলিকে হস্তান্তরিত করার ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি রোগ শনাক্ত করার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উৎপাদন করছে। এর ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ গড়ে উঠেছে। তাঁর এই উদ্ভাবনের জন্য সম্প্রতি ইনফোসিস তাঁকে সম্মানিত করেছে।