কোভিডের নতুন প্রজাতি ওমিক্রনের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের প্রেক্ষিতে মহামারীজনিত বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব সুনীল বার্থওয়াল বুধবার রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এক বৈঠক করেন। এই বৈঠকে বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের শ্রম দপ্তর ও শ্রম কমিশনের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, মুখ্যসচিব ও বিভাগীয় সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রেলমন্ত্রক এবং খাদ্য ও গণবন্টন দপ্তরের আধিকারিকরাও যোগ দেন।

রাজ্য সরকারগুলির পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত রাজ্যে নৈশকালীন ও সপ্তাহান্তিক কার্ফু জারি রয়েছে সেখানে বাদে অন্যত্র নির্মাণ কর্মকান্ড, ব্যবসায়িক কাজকর্ম, দোকান খোলা ও বন্ধ এবং শিল্প সংস্থার কাজকর্মে কোন বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি। যে সমস্ত এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে প্রবাসী শ্রমিকদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাওয়ার কোন অস্বাভাবিক ঘটনার খবর মেলেনি। তবে, এক শ্রেণীর সংবাদ মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থান ছেড়ে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়া সম্পর্কে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য। এমনকি, কিছু ক্ষেত্রে পুরানো ছবি প্রকাশ করে প্রবাসী শ্রমিকদের নিজ রাজ্যে ফিরে যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এগুলি সবই অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিও বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। কয়েকটি রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই হতদরিদ্র শ্রমিকদের শুকনো রেশন বন্টন করছে। কয়েকটি রাজ্য সরকার ভবন ও অন্যান্য নির্মাণকর্মী সেস তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। রেলের পক্ষ থেকেও কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর মত দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশনে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যাপারে রেল প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য শ্রম কমিশনারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সারা দেশে ২১টি নজরদারি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। রাজ্যগুলির পক্ষ থেকেও নিঃশুল্ক সহায়তা ফোনলাইন চালু হয়েছে। এদিকে, খাদ্য ও গণবন্টন দপ্তরের নির্দেশকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক দেশ এক রেশন কার্ড ব্যবস্থার আওতায় রেশন তোলার ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে প্রবাসী শ্রমিকদের নিজ রাজ্যে ফিরে আসা সম্পর্কিত যে কোন তথ্য লিপিবদ্ধ করার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও রুজি-রোজগারের বিষয়টিতে আরও অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পি আই বি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *