ওয়েব ডেস্ক; ২ ডিসেম্বর : উপনিবেশিক যুগের প্রকৃতি চর্চার ইতিহাসকে আধুনিক প্রাণিবৈচিত্র্য গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করে এক উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারে কলকাতার জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা জেএসআই-এর বিজ্ঞানীরা ভারতে প্রথমবার ইউনান কিলব্যাক সাপের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।

জেএসআই-এর সরীসৃপ বিভাগে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক সংগ্রহ পরীক্ষার সময় বিজ্ঞানী সুমিধ রায়, অনির্বাণ দাস এবং ডক্টর প্রত্যুষ মহাপাত্র জানান যে, খ্যাতনামা প্রকৃতিবিদ ডক্টর জন অ্যান্ডারসনের ১৮৬৮ সালের ইউনান অভিযানে সংগৃহীত মূল নমুনাগুলির একটির সঠিক পরিচয় তাঁরা স্থাপন করতে পেরেছেন। অ্যান্ডারসন ১৮৭৯ সালে তিনটি নমুনার ভিত্তিতে ইউনানেনসিস শ্রেণীর বর্ণনা করেছিলেন। এই নমুনাগুলি প্রথমে এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গলের ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত ছিল এবং পরে জেএসআই-এ স্থানান্তরিত হয়। নমুনাগুলির কোড ছিল জেএসআইআর৪১৯১, জেএসআইআর৪১৯২ এবং জেএসআইআর৪১৯৬। এর মধ্যে একটি নমুনাকে এখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লেকটোটাইপ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক নমুনাটির পাশাপাশি, আর-ও সাতটি সংরক্ষিত নমুনা সরীসৃপ বিভাগে পাওয়া যায়। সমষ্টিগত নম্বর জেএসআইআর২৪০৩৯। এগুলি ১৯৮২ সালের ২২ ডিসেম্বর নামদাফা টাইগার রিজার্ভের গিবনস ল্যান্ড অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করেছিলেন জেএসআই-এর তৎকালীন বিজ্ঞানী ডক্টর এস বিশ্বাস এবং তাঁর সহকর্মীরা। সযত্ন পরীক্ষার পর এগুলিও ইউনান কিলব্যাক প্রজাতির বলে নিশ্চিত হয়েছে। ভারতে এই সাপের উপস্থিতি এই প্রথম নথিভুক্ত হল।

ইউনান কিলব্যাক বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশ এবং উত্তরপূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশে পাওয়া যায়। এর বিস্তৃতি মিয়ানমারের সংলগ্ন অঞ্চল পর্যন্তও পৌঁছতে পারে। এই আবিষ্কারটি জাদুঘরের পুরোনো সংগ্রহের ভবিষ্যৎ গবেষণায় অপরিসীম বৈজ্ঞানিক মূল্য প্রমাণ করে। সরীসৃপ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ডক্টর প্রত্যুষ পি মহাপাত্র জানান, আধুনিক শ্রেণিবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরোনো নমুনার পরীক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজাতি চিহ্নিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জেএসআই-এর পরিচালিকা ড: ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, সংস্থাটি দেশের সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশ, রাজস্থান এবং গুজরাট-সহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রাণিবৈচিত্র্য সমীক্ষা উন্নত করছে। এর উদ্দেশ্য কেবলমাত্র নতুন প্রজাতি সন্ধান নয়, ভারত সীমানার ভেতর কোন কোন প্রজাতি পাওয়া যায় তা নথিভুক্ত করা। তিনি আরও জানান যে, সীমান্ত অঞ্চলের প্রাণিবৈচিত্র্য আরও সুসংগঠিতভাবে অনুসন্ধান করতে চলতি বছর জেএসআই ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। অরুণাচল প্রদেশের ইটানগরের এবং রাজস্থানের যোধপুরের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে জেএসআই সীমান্ত এলাকায় সেনার সঙ্গে যৌথভাবে প্রাণী জরিপ পরিচালনা করে ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক তথ্যভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে।