ওয়েব ডেস্ক; ১৬ জুলাই : কেন্দ্রীয় সড়ক, পরিবহন এবং মহাসড়ক ও কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা মহাসড়ক নায়কদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি দেশে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ পরিবহন পরিমন্ডল গড়ে তুলতে মোদী সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত এক দশক ধরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক (এমওআরটিএইচ) ভারতের পরিকাঠামো বিপ্লবে অগ্রবর্তী স্থান দখল করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির নির্দেশনায় ৬০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি মহাসড়ক নির্মিত হয়েছে। যা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিসাধন এবং অর্থনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মালহোত্রা বলেন, দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের মতো হাইস্পিড করিডর নির্মাণ দুটি প্রধান অর্থনৈতিক হাবের মধ্যে যাতায়াতের সময়সীমা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে এনেছে। দিল্লি- মিরাট এক্সপ্রেসওয়ে যাতায়াতের সময়সীমাকে আড়াই ঘন্টার জায়গায় ৪৫ মিনিটে নামিয়ে এনেছে। ঠিক তেমনই অমৃতসর – জামনগর এক্সপ্রেসওয়ে এবং বেঙ্গালুরু – মহীশূর এক্সপ্রেসওয়ে যাতায়াত ব্যবস্থাকে নিরাপদ, দ্রুত করে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে দিনে গড়ে যেখানে ১২ কিলোমিটার মহাসড়ক তৈরি হত এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে গড়ে ৩০ কিলোমিটারে। তিনি আরও বলেন, বিগত ৫ বছরে জাতীয় মহাসড়কে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ৪৫ কোটি শ্রম দিবস তৈরি হয়েছে। অপ্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তৈরী হয়েছে ৫৭ কোটি শ্রম দিবস। এছাড়াও অন্য আরও বাড়তি নিয়োগের ফলে ৫৩২ কোটি শ্রম দিবস তৈরি হয়েছে।

বিকশিত ভারত @২০৪৭ –এর দিকে তাকিয়ে পরিবেশ বান্ধব নীতি রূপায়ণে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণ উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ইথানল মিশ্রণকে ই-২০ লক্ষ্য সীমার দিকে তাকিয়ে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে প্রায় ৮০০ ইথানল উৎপাদন প্রকল্প নথিভুক্ত হয়েছে। নিরাপদ সড়ক যাতায়াতকে সুনিশ্চিত করতে এমওআরটিএইচ প্রায় ১৪ হাজার নানবিধ সমস্যাকে চিহ্নিত করে তা সমাধানের ব্যবস্থা করেছে। মহাসড়ক নির্মাণের নকশা যাতে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী এবং পরিবেশ বান্ধব করে তোলা যায় তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পথচারীদের যাতায়াতের সংস্থান রাখা হয়েছে।

মহাসড়ক নায়ক বলতে ট্রাক ড্রাইভারদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে লজিস্টিক ক্ষেত্রে তারা মেরুদন্ড স্বরূপ। তাদের উন্নতি কল্পে মোদী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ট্রাক ড্রাইভারের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নানাবিধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ সুনিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক বীমার আওতায় তাদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে। দুর্ঘটনার একঘন্টার মধ্যেই তাদের যেকোনও উপায়ে জীবন রক্ষার্থে নিখরচায় দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। মহাসড়কের ধারে যাত্রীদের সুবিধার্থে শৌচালয়, পানীয় জল, বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য চার্জিং স্টেশন, খাবার দোকান, পেট্রোল পাম্প প্রভৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে। মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ের ধারে এই জাতীয় ৭০০ -রও বেশি সুবিধা প্রদানকারী ব্যবস্থা ২০২৮-২৯ এর মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাবে।

এমওআরটিএইচ গত ১১ বছরের যাত্রাপথে বিশ্বমানের সড়ক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। তা একদিকে পরিবেশ বান্ধব এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রেও নিরাপদ। বিকশিত ভারত @২০৪৭ এর লক্ষ্য অর্জনের পথে উদ্ভাবনী, সুস্থায়ী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পথে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের প্রসার, দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনা, দক্ষতা প্রসার প্রভৃতির মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।