ওয়েব ডেস্ক; ১ ডিসেম্বর : দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজু বিস্তা শিলিগুড়িতে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) কলকাতা আয়োজিত সাংবাদিকদের জন্য একদিনের কর্মশিবির বার্তালাপে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, নতুন শ্রমিক বিধি কল্যাণমূলক এবং দেশের সকল শ্রমিকের স্বার্থে উপকারী।
সরকার শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত এবং সহজলভ্য করতে আগের ২৯-টি শ্রম আইনকে একত্রিত করে চারটি সমন্বিত শ্রমিক বিধি প্রণীত করেছে। এগুলি ‘কোড অন ওয়েজেস, ২০১৯’; ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড, ২০২০’; ‘কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি, ২০২০’; এবং ‘অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস কোড, ২০২০’, জানান শ্রী বিস্তা। এই ঐতিহাসিক সংস্কারের ফলে, শ্রমিকরা নিরাপত্তা, মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ সুবিধা সহজে পেতে পারবে। এতে দেশের সংগঠিত এবং অসংগঠিত দুই ধরনের শ্রমিকই সুরক্ষিত হবে।
নতুন বিধিতে বাধ্যতামূলক নিয়োগপত্র প্রয়োজন, গ্র্যাচুইটি সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সবার জন্য বিনামূল্যে বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, কর্মীদের ইএসআই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এতে চা বাগান শ্রমিক, এমএসএমই এবং দার্জিলিং পাহাড় ও ডুয়ার্সের অসংগঠিত শ্রমিকদের বিশেষ উপকার হবে। একই কাজে সমান মজুরি ও সমান সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। শ্রী বিস্তা জানান, এর আগে চা বাগানগুলিতে ১৯৫১ সালের ‘প্লান্টেশন লেবার অ্যাক্ট’ প্রযোজ্য ছিল। তখন শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারিত করত শ্রমিক সংগঠন এবং মালিকরা মিলে। ব্রিটিশ শাসনকাল শেষ হলেও ঔপনিবেশিক আইন কার্যকর ছিল। এখন সেই ধারাগুলি নতুন শ্রমিক বিধির মধ্যে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিস্তা পিআইবি কলকাতার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, পিআইবি ধারাবাহিকভাবে সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জ্ঞান বিনিময়ের মঞ্চ তৈরি করে আসছে। তিনি স্বচ্ছ যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বলেন, সচেতন নাগরিক উন্নয়নশীল জাতির ভিত্তি।
পিআইবি কলকাতা, শিলিগুড়িতে দিনব্যাপী বার্তালাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য সরকারি সংস্থাগুলি ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর সংযোগের সুযোগ করে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নীতি ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের তথ্য সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে স্থানীয় স্তরে পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজু বিস্তা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিআইবি ও সিবিসি কলকাতার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এবং শিলিগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী জেলার সংবাদ প্রতিনিধিরা।
স্বাগত বক্তৃতায় পিআইবি ও সিবিসি কলকাতার অতিরিক্ত মহানির্দেশিকা মিস জেন নামচু অতিথিবর্গ এবং সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সংবাদমাধ্যম সরকারের ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তিনি সাংবাদিকদের পিআইবি ওয়েবসাইটকে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগের মাধ্যমে নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল গ্রামীণ স্তরে পৌঁছে দেয়া যায়।
এর আগে পিআইবি কলকাতার সহকারি নির্দেশিকা শ্রীজাতা সাহা সাহু দপ্তরের কার্যাবলীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেন। তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মশিবির পিআইবি ও জেলা স্তরের সাংবাদিকদের মধ্যে সম্পর্ক গঠন করতে সাহায্য করে। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন সংক্রান্ত খবর সহজে পৌঁছে দেওয়া যায় মানুষের কাছে।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে ‘এক পেঢ় মা কে নাম’ প্রচারের আওতায় একটি প্রতীকী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়। বৃক্ষরোপণে নেতৃত্ব দেন রাজু বিস্তা, পিআইবি ও সিবিসি (পূর্ব ভারতে)র মহানির্দেশক টি ভি কে রেড্ডি এবং মিস নামচু।
আলোচনায় ব্যাংকিং ও জিএসটি কমিশনারেটের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা সাংবাদিকদের স্ব স্ব ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি সম্পর্কে অবহিত করেন।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার লিড ব্যাংক ম্যানেজার, রাজেশ কুমার একটি উপস্থাপন প্রদান করেন। তিনি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নীতির সাফল্য, অগ্রগতি এবং প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরেন। তিনি জানান কিভাবে পিএমজেডিওয়াই, ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং ঋণের ব্যবস্থাগুলি আর্থিক রূপান্তর ঘটাচ্ছে এবং অসংখ্য মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় এনেছে।
আরেকটি অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ উপস্থাপনায় সিজিএসটি শিলিগুড়ির কমিশনার ড. জিতেশ নাগোরি জিএসটি ২.০- এর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কিভাবে জিএসটি ২.০ প্রক্রিয়া সহজ করেছে, স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে এবং করদাতাদের নিয়মপালনের সমস্যা লাঘব করে ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
অনুষ্ঠানটি একটি সমিলিত আলোচনার পর শেষ হয়। সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করেন এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। বিশেষজ্ঞরা সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেন।
এই ধরনের কর্মশিবির পিআইবি ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে গঠনমূলক সংযোগকে উৎসাহিত করবে। এতে সঠিক সময়ে মানবকেন্দ্রিক তথ্য পরিবেশন আরও সুসংহত হবে।
সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পিআইবি কলকাতার মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার মহম্মদ সিকান্দার আনসারি।
