ওয়েব ডেস্ক; ৯ জানুয়ারি : প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং শিক্ষা মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্প বীর গাথা ৫.০ সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনের একটি অঙ্গ হিসেবে বিপুল সাড়া ফেলেছে। এবছর এই প্রকল্পে প্রায় ১.৯০ লক্ষ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১.৯২ কোটি ছাত্র-ছাত্রী যোগদান করেছে। ২০২১ সালের সূচনা পর্বের পর থেকে এটাই সর্ববৃহৎ যোগদান। ১০০ জন জয়ী জাতীয় স্তরে নির্বাচিত হয়েছে। এদের মধ্যে প্রিপারিটরি পর্ব (গ্রেড ৩-৫) থেকে ২৫ জন, মিডিল পর্বে (গ্রেড ৬-৮) ২৫ জন এবং সেকেন্ডারি পর্বে (গ্রেড ৯-১০ এবং ১১-১২ সমসংখ্যক প্রতিনিধিত্ব) ৫০ জন।

২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া বীর গাথা ৫.০-তে উদ্ভাবনমূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিযোগিতায় যুক্ত করা হয়। ভিডিওগ্র্যাফি, অ্যাঙ্কারিং, রিপোটিং, গল্প বলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভারতের সমৃদ্ধ সামরিক প্রথা, কৌশল, অভিযান এবং বীরত্বের বিষয় সম্বলিত সামরিক পরম্পরার ওপর ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্ভাবনী কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হয়।

কলিঙ্গের রাজা খারাভেলা, পৃথ্বীরাজ চৌহান, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ, ১৮৫৭ সালের যোদ্ধাবৃন্দ, সেইসঙ্গে উপজাতি বিদ্রোহের নেতৃত্বে মহান ভারতীয় যোদ্ধাদের অদম্য মানসিকতা ও সামরিক কৌশল চিহ্নিত করতে ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করা হয়।

বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে যে, বিদেশের সিবিএসই অনুমোদিত বিদ্যালয়গুলিও প্রথমবার এই উদ্যোগে সামিল হয়। ১৮টি দেশের ৯১ টি বিদ্যালয়ের ২৮,০০৫ জন ছাত্র-ছাত্রী তাদের আবেদন পত্র জমা দেয়। ফলে, বিশ্ব ক্ষেত্রে ভারতের বীর গাথা যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, এটি তার এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্বরূপ।

সুপার ১০০ বিজেতাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং শিক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে যৌথভাবে সম্বর্ধনা দেওয়া হবে। প্রত্যেক বিজেতা ১০,০০০ টাকা নগদ পুরস্কার পাবেন। সেইসঙ্গে কর্তব্য পথে সাধারণতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজ ২০২৬ বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।

সেইসঙ্গে ১০০ জন জাতীয় স্তরের বিজেতা এবং রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে (প্রতিটি বিভাগে ২ জন করে) মোট ৮ জন বিজেতা এবং জেলা স্তরে (প্রতিটি বিভাগে ১ জন করে) মোট ৪ জন বিজেতাকে রাজ্য/ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল/ জেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হবে।

আজাদি কা অমৃত মহোৎসবের অঙ্গ হিসেবে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপন উপলক্ষে ২০২১ সালে বীর গাথা প্রকল্পের সূচনা হয়। এর উদ্দেশ্য হল বীরত্ব পুরস্কার প্রাপকদের সাহসিকতা উদযাপন। তাঁদের বীরত্বপূর্ণ কাজ এবং জীবন যাত্রাকে তুলে ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মনোভাব গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। পর্ব ১ থেকে পর্ব ৫ পর্যন্ত এই প্রকল্পে দেখা যাচ্ছে যে, তা কেবলমাত্র দেশ জুড়েই উৎসাহের সঞ্চার করেছে তা নয়, দেশের বাইরেও ভারতীয় বিদ্যালয়গুলিতে তা অনুরূপ উদ্দীপনার সঞ্চার ঘটিয়েছে।

শুরুর পর থেকে প্রকল্প বীর গাথার উল্লেখযোগ্য। অগ্রগতি সাধন হয়েছে। প্রথম ২টি পর্বে ২৫ জন জাতীয় স্তরে বিজয়ী স্বীকৃতি পেয়েছিল। পর্ব ১-এ ৮ লক্ষ এবং পর্ব ২-এ ১৯ লক্ষ ১৯ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী যোগ দেয়। পর্ব ৩ থেকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে। অংশ নেওয়া ১.৩৬ কোটি ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ১০০ জন জাতীয় স্তরে জয়লাভ করে। ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনের সংখ্যা বীর গাথা ৪.০-তে ১.৭৬ কোটিতে পৌঁছোয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *