ওয়েব ডেস্ক; ২৪ জানুয়ারি: ছাত্রছাত্রীদের নিজের মাতৃভাষায় পঠনপাঠনের সুযোগ করে দিতে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন এক নির্দেশিকা জারি করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সংবিধানের অষ্টম তপশিলের অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলিতে সকল বিষয়ের পাঠক্রম অনুবাদ করতে হবে। অনুদিত এই পাঠক্রম ডিজিটাল মাধ্যমে রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), নিখিল ভারত কারিগরি শিক্ষা পরিষদ (এআইসিটিই), এনসিইআরটি, জাতীয় মুক্ত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা (এনআইওএস), ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর মতো বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা নিয়ামক প্রতিষ্ঠান এবং আইআইটি, এনআইটি-গুলির প্রধানদের আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি পাঠক্রমের স্টাডি মেটেরিয়াল ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ করার নির্দেশ দিয়েছে।

জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশক্রমে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে বহুভাষিক ব্যবস্থাপনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, ছাত্রছাত্রীরা নিজ ভাষায় শিক্ষালাভ করে উপকৃত হবেন। নিজের ভাষায় শিক্ষালাভের মাধ্যমে তাঁরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উদ্ভাবনমূলক চিন্তাভাবনা করতে পারবেন, এক্ষেত্রে ভাষা কোনো অন্তরায় হবে না।

২০২০-র জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসারে ভারতের বহুভাষিক চরিত্র হল তার শক্তি। একে কাজে লাগিয়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। আঞ্চলিক ভাষায় পাঠক্রম তৈরি করার মধ্য দিয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার কাজটি সহজ হবে।

কেন্দ্রীয় সরকার গত দু’বছর ধরে কৃত্রিম মেধাভিত্তিক অ্যাপ – ‘অনুভাষিণী’র মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি, আইন, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে বিভিন্ন পাঠক্রমের আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদের কাজ করেছে। এই বইগুলি ‘ই-কুম্ভ’ পোর্টালে পাওয়া যাচ্ছে। ‘দীক্ষা’ পোর্টালে ৩০টির বেশি ভারতীয় ভাষায় বিদ্যালয় শিক্ষার বিভিন্ন বই পাওয়া যাচ্ছে। জেইই, এনইইটি, সিইউইটি-র মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ১৩টি ভারতীয় ভাষায় দেওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: পি আই বি