ওয়েব ডেস্ক; ২৪ জুন : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ আগামী শুক্রবার ২৬ জুন নতুন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে নার্কো কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের দশম শীর্ষস্তরীয় বৈঠকে পৌরোহিত্য করবেন। মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো আয়োজিত এই বৈঠক প্রধানমন্ত্রী মোদীর মাদক মুক্ত ভারত গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার সরকারি প্রয়াসকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বৈঠকে মুখোমুখি ও ভার্চুয়াল মাধ্যমে ৪৪টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দপ্তর এবং রাজ্য সরকার ও মাদক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির ১০৮ জন প্রতিনিধি যোগ দেবেন।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ভিশন ডকুমেন্ট (২০২৬-২০২৯)-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করবেন। কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর, মাদক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বিশদ আলোচনার পর প্রস্তুত এই ভিশন ডকুমেন্টে মাদকের চাহিদা, সরবরাহ ও ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে একটি সুসমন্বিত পথনির্দেশিকা প্রদান করা হবে। এতে সিন্থেটিক ড্রাগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ডার্ক নেট ভিত্তিক পাচার রোগ, যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক ব্যবহারকারীদের জন্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সম্প্রসারণ সহ বিভিন্ন ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। এতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, পুনর্বাসন, জনসচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব, সময়সীমা এবং পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অমিত শাহ মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন এবং জম্মু ও গুয়াহাটিতে ব্যুরোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন। মাদক বিনষ্ট পাক্ষিক প্রচারাভিযানেরও সূচনা হবে। এই অভিযানে দেশ জুড়ে ৬০০০ কোটি টাকার প্রায় ২ লক্ষ ৯ হাজার ৫০০ কেজি মাদক দ্রব্য বিনষ্ট করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বৈঠক দেশে মাদক সমস্যার মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে ব্যাপক পর্যালোচনা ও মূল্যায়ণের মঞ্চ হয়ে উঠবে। মাদকের অভিশাপের মোকাবিলায় “সামগ্রিক সরকার”-এর দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি মাদক পাচার ও মাদকের অপব্যবহার নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতার যে নীতি নিয়েছে, এই বৈঠক তাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।