ওয়েব ডেস্ক; ২৮ নভেম্বরঃ ভারতীয় প্যানোরমা ওয়েব সিরিজ ওটিটি বিভাগের বিচারক মণ্ডলী গোয়ায় ৫৬তম ভারতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সাংবাদিক সম্মেলনে চলচ্চিত্রশিল্পে বর্তমান সময়ে গল্পবলার পরিবর্তিত ধারাকে তুলে ধরেন। গল্পবলার গতিময়তার এই বিবর্তন চালচিত্রের সামাজিক দর্পণ হিসেবে ধরা দিচ্ছে বলে তাঁরা জানান। বিচারক মণ্ডলীর চেয়ারপার্সন ভারতবালা ও অন্য সদস্যরা হলেন শেখর দাস, মুঞ্জল শ্রফ এবং রাজেশ্বরী সচদেব। ডিজিটাল ব্যাখ্যান ওটিটি মঞ্চে ভারতের সৃষ্টিশীল সংস্কৃতিকে কিভাবে আরও বিচিত্র উপায়ে তুলে ধরা হচ্ছে তার ব্যাখ্যা করেন। সমসাময়িক গল্প বলার দৃষ্টিনন্দন ভঙ্গীর সঙ্গে মৌলিকতা, বৈচিত্র্য ও সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার যে স্পৃহা দেশের সীমা ছাড়িয়েও সমস্ত দর্শকদের মনরঞ্জন করছে।
ওটিটি মঞ্চের যে প্রকাশ ঘটেছে – সে সম্পর্কে ভারত বালা বলেন, প্রচলিত ফর্মুলা এবং প্রথামাফিক ভঙ্গিমার সীমাকে অতিক্রম করে মুক্তমনা গল্প বলার পরিসর এই ওটিটি মঞ্চের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠছে। ভারত এক বৈচিত্র্যপূর্ণ উপ-মহাদেশ, সেখানে আমাদের প্রতিবেশী দেশ সহ আমাদের স্থানীয় পরিবেশ এবং আমাদের সংলগ্ন সমাজের বিচিত্র গল্পকথা এই মঞ্চে ফুটে উঠছে। ভারতীয় গল্পকথা সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বের আঙিনাকে স্পর্শ করছে বলে তিনি জানান।
বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা শেখর দাস ডিজিটাল নির্মাতাদের শৈল্পিক দায়বদ্ধতার দিক ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ওটিটি সিনেমার এক আকর্ষণীয় বিস্তৃত পরিসর। জটিল সামাজিক বাস্তবতার গভীর ব্যাখ্যা এতে ফুটে উঠছে।
প্রযোজক ও পরিচালক মুঞ্জল শ্রফ বলেন ওটিটি ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। তিনি একে পরিবেশনের গণতন্ত্রীকরণ বলে জানান। ওটিটি এবং ইউটিউব’কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতারা বক্স অফিস ফর্মুলা এবং টেলিভিশনের বিধিনিষেধের বাইরে গিয়েও রীতি বিরুদ্ধ গল্প বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
অভিনেত্রী রাজেশ্বরী সচদেব দর্শক ও পর্দার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠার উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, আমাদের হাতের মুঠোয় নতুন নতুন প্রেক্ষাপটে এইসব গল্প মনের ক্ষুধাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এইসব গল্পগুলি অতীতের বড় পর্দায় সুযোগ না পেলেও দর্শকরা আজ তা অত্যন্ত আগ্রহ ও ভালোবাসার সঙ্গে দেখছেন।
