ওয়েব ডেস্ক; ৬ সেপ্টেম্বর: ৫ সেপ্টেম্বর ইন্সপেক্টর জেনারেল বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স – রিজিয়ন কমান্ডার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ স্তরের ১৯ তম বর্ডার কোঅর্ডিনেশন কনফারেন্সে আলোচনার যৌথ রেকর্ড স্বাক্ষরিত হয়েছে।

যশোরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ২১ সদস্যের বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, এরিয়া কমান্ডার, উত্তর পশ্চিম অঞ্চল, রংপুর। বিজিবি প্রতিনিধি দলে শামীম আহমেদ, এসজিপি, এসপিপি, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, এরিয়া কমান্ডার, দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল যশোর সহ অন্যান্য ১৯ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

৭ সদস্য বিশিষ্ট বিএসএফ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন আয়ুষ মণি তিওয়ারি, আইপিএস, আইজি, বিএসএফ, দক্ষিণ বেঙ্গল সীমান্ত। দীনেশ কুমার যাদব, আইপিএস, আইজি, বিএসএফ, গুয়াহাটি; শ্রী দীপক এম দামোর, আইপিএস, আইজি, বিএসএফ, উত্তরবঙ্গ সীমান্ত সহ বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশ মন্ত্রকের ৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে বিজিবি প্রতিনিধি দলের কমান্ডার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, এরিয়া কমান্ডার, উত্তর পশ্চিম জোন, রংপুর বলেন যে সবচেয়ে জটিল এবং গতিশীল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি এবং বিএসএফ উভয়ই মোতায়েন রয়েছে। তিনি সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে বিএসএফ ও ভারত সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিজিবি প্রতিনিধিদলের কমান্ডার আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জটিল ও গতিশীল প্রকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি ও বিএসএফ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকরী বাস্তবায়নে একে অপরের প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, উভয় বাহিনীর সংঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিজিবি এই সভার মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা গতিশীল করতে চায় যাতে নিম্ন স্তরের সমস্যাগুলোও খুব সহজে সমাধান করা যায়।

বিএসএফ প্রতিনিধিদলের কমান্ডার আয়ুষ মণি তিওয়ারি, আইপিএস, ইন্সপেক্টর জেনারেল, বিএসএফ, দক্ষিণবঙ্গ, ফ্রন্টিয়ার, বলেন যে সীমান্তের দুই পাশেই অপরাধী সক্রিয় রয়েছে। বিএসএফ ও বিজিবি যখন প্রতিটি স্তরে একসঙ্গে কাজ করবে তখনই তাদের ঘৃণ্য পরিকল্পনা নস্যাৎ করা যাবে। এ জন্য বিএসএফ সর্বদাই সর্বোত্তম সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন যে “সমন্বিত বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান” (সিবিএমপি) কার্যকর, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য উভয় বাহিনীর দ্বারা তৈরি একটি হাতিয়ার। এর প্রকৃত বাস্তবায়নের দায়িত্ব সীমান্তে মোতায়েন উভয় বাহিনীর কাঁধে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে এই বৈঠক দুই বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল, বিএসএফ তার প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও উদার আতিথেয়তার জন্য মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, এরিয়া কমান্ডার, উত্তর পশ্চিম জোন কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সীমান্তে শান্তি ও সুরক্ষা বজায় রাখার পবিত্র দায়িত্ব উভয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে অর্পণ করা হয়েছে। তিনি তার দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে বন্ধুত্বপূর্ণ মতবিনিময়, সহযোগিতা, সমন্বয় এবং পারস্পরিক সমর্থন দ্বারাই বোঝাপড়ার পার্থক্য হ্রাস হবে এবং উভয় বাহিনীর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিভিন্ন সীমান্ত সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে। সেই সাথে, এই ধরনের বার্তালাপের দ্বারা উৎকৃষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য দুই দেশের মধ্যে বন্ধনকে শক্তিশালী করবে।

সম্মেলন শেষে, উভয় বাহিনীর কমান্ডাররা জেআরডিতে স্বাক্ষর করেন এবং একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বাতাবরণে সম্মেলন সমাপ্ত করেন।