ওয়েব ডেস্ক; ১৮ এপ্রিল: দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের অধীনে বর্ডার ফাঁড়ি ডোবিলা, ১৫৩ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা চোরাকারবারিদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ৫ টি সোনার বিস্কুট সহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে। চোরাকারবারি এসব বিস্কুট বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিল।

ঘটনাটি ১৭ এপ্রিল, জওয়ানরা নিশ্চিত তথ্য পায় যে বাংলাদেশ থেকে সোনা পাচার হতে পারে। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে, জওয়ানরা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে। তথ্যের ভিত্তিতে, জওয়ানরা দেখতে পান একটি মোটরসাইকেল আরোহী আমুদিয়া গ্রাম থেকে ডোবিলার দিকে আসছে। কাছে এলে জওয়ানরা তাকে বাধা দিলে সে পালানোর চেষ্টা করে কিন্তু তৎক্ষণাৎ জওয়ানরা তাকে সেখানে আটক করে সীমান্ত চৌকিতে নিয়ে আসে। চৌকিতে তাকে তল্লাশি করা হলে তার উরু থেকে সেলো টেপ বাঁধা ০৫ টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার হয়। ধৃত পাচারকারীর পরিচয় – দেবাশীষ দেবনাথ, জেলা উত্তর ২৪ পরগনা। জব্দ করা সোনার ওজন ৫৮১.২৭ গ্রাম এবং যার মোট মূল্য ৩৬,৩১,৫৬৮/- টাকা।

ধৃত পাচারকারী জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ১৫ দিন আগে তার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা গগন মন্ডল নামে এক বাংলাদেশি ব্যক্তির কল আসে। বাংলাদেশি ওই ব্যক্তি তাকে ৫ টি সোনার বিস্কুট দেবে বলে জানান এবং পরে এই বিস্কুটগুলো সায়েস্তা নগরের নয়ন নামে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিতে হবে। এই কাজের জন্য সে ২০০০/- টাকা পাবে। টাকার লোভে সে রাজি হয়ে যায়। সে আরও জানান, এর পর সে মোটরসাইকেলে সোনার বিস্কুট নিয়ে আসছিল, কিন্তু পথেই বিএসএফ জওয়ানরা তাকে ধরে ফেলে।

আটক চোরাকারবারী ও জব্দকৃত সোনার বিস্কুট পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শুল্ক অধিদপ্তর, তেঁতুলিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের মুখপাত্র বলেন, চোরাকারবারীরা নতুন নতুন উপায়ে পাচারের চেষ্টা করে। কিন্তু বিএসএফ জওয়ানদের সতর্কতা এবং বোঝাপড়ার কারণে চোরাকারবারীরা ক্রমাগত ধরা পড়ছে এবং তাদের পরিকল্পনা প্রতিনিয়ত নস্যাৎ করা হচ্ছে। তিনি জওয়ানদের এত বড় সাফল্যে খুশি প্রকাশ করেছেন ।

বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স সীমান্তে বসবাসকারী লোকদের কাছে আবেদন করে যে, যদি তাদের কাছে সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তারা বিএসএফের সীমা সাথী হেল্পলাইন নম্বর ১৪৪১৯ এ যোগাযোগ করে জানাতে পারেন। এ ছাড়া দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তে আরও একটি নম্বর ৯৯০৩৪৭২২২৭ জারি করেছে, যাতে সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা ভয়েস মেসেজ করে পাঠানো যাবে। সঠিক তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিকে উপযুক্ত পুরস্কারের অর্থ প্রদান করা হবে এবং তার পরিচয় গোপন রাখা হবে।