ওয়েব ডেস্ক; ২৩ সেপ্টেম্বর : সঠিক সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা মহিলাদের সংগঠিত হতে, সুস্থায়ীভাবে জীবিকার সুযোগ গড়ে তুলতে এবং তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ব্যয়সাশ্রয়ী মূল্যে ঋণের সুবিধা না পেয়ে গ্রামাঞ্চলে মহিলারা প্রায়শই আয়বৃদ্ধির কর্মসূচী শুরু করতে পারেন না ফলে তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে ব্যর্থ হন।

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার ১১ জন মহিলা মিলে ‘মা লক্ষ্মী মহিলা সমিতি’ নামে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করেন। এনএসএফডিসি-র ‘মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা’-র আওতায় ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা নিয়ে গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে কৃষিকাজের মাধ্যমে তাদের জীবিকায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। ডব্লিউবিএসসিডিসি ২০২৫ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি এই ঋণ দিয়েছিল।

এই সহায়তা পাওয়ার আগে ওই মহিলাদের আয়ের কোনো নিয়মিত উৎস ছিল না এবং তারা আর্থিক অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। কাজ করার যথেষ্ট ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও, পুঁজির অভাবের কারণে তারা স্থায়ীভাবে কোনো জীবিকা-ভিত্তিক কর্মসূচী শুরু করতে পারছিলেন না।

সদস্যরা ‘পশ্চিমবঙ্গ তপশিলি জাতি উন্নয়ন নিগম’-এর জেলা কার্যালয়ে এই প্রকল্পের বিষয়ে জানতে পারেন। এরপর তাঁরা লিজ নেওয়া জমিতে গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে কৃষিকাজের জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান। এর পর যে ঋণ পান, সেই অর্থ দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন।

নিরলস প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই গোষ্ঠী গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে সফলভাবে কৃষিকাজ করেন। বর্তমানে প্রত্যেক সদস্য মাসে প্রায় ৪,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা আয় করছেন। এই বাড়তি আয় তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে এবং সংসারের নানা প্রয়োজন মেটাতে তাঁরা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।

‘মা লক্ষ্মী মহিলা সমিতি’-র সদস্যরা এখন আরও আর্থিক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে চলেছেন। ঠিক সময়ে ঋণ পাওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা গ্রামাঞ্চলে কীভাবে মহিলাদের ক্ষমতায়িত করে সুস্থায়ীভাবে আয় করতে সাহায্য করতে পারে, এই গোষ্ঠীই তার প্রমাণ। সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য স্বনির্ভর এই গোষ্ঠী এনএসএফডিসি এবং ডব্লিউবিএসসিডিসি-কে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *