ওয়েব ডেস্ক; ২১ মার্চ : নির্বাচন কমিশন ১৫ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সহ আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরী বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ছ’টি রাজ্যের কয়েকটি আসনে উপ-নির্বাচনের নির্ঘন্টও ঘোষিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অথবা যে কোনো সংগঠন বা যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, তাঁদের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি বা এমসিএমসি থেকে শংসাপত্র নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। টিভি, রেডিও, অডিও-ভিস্যুয়াল ডিসপ্লে, ই-পেপার, এসএমএস, ভয়েস মেসেজ সহ সামাজিক মাধ্যমে প্রতিটি বিজ্ঞাপন প্রচারের আগে এমসিএমসি থেকে শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ব্যক্তিবিশেষ বা প্রার্থীরা জেলাস্তরের এমসিএমসি-র কাছ থেকে বিজ্ঞাপনের শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিভিন্ন রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিবন্ধিকৃত রাজনৈতিক দলগুলি তাদের সদর দপ্তর থেকে রাজ্যস্তরের এমসিএমসি-র কাছে এই আবেদন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নেতৃত্বে গঠিত হওয়া অ্যাপিলেট কমিটি জেলা এবং রাজ্যস্তরের এমসিএমসি-গুলির যে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
ইন্টারনেট-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং ওয়েবসাইটের জন্যও কোনো রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। এমসিএমসি-গুলি রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের এ সংক্রান্ত শংসাপত্র জারি করলেই সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে তা প্রচার করা সম্ভব হবে।
এমসিএমসি-গুলি পেইড নিউজের বিষয়ে সতর্ক থাকবে। কোনো সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর পাশাপাশি, প্রার্থীরা যখন তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন, সেই সময় নিজের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্যও এফিডেভিটে দাখিল করতে হবে।
১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৭৭(১) ধারা অনুসারে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক রাজনৈতিক দলগুলিকে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের জন্য কত অর্থ ব্যয় হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনের ৭৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে এই তথ্য জমা দিতে হবে।
ব্যয় সংক্রান্ত এই তথ্যে ইন্টারনেট সংস্থা এবং ওয়েবসাইটগুলিকে বিজ্ঞাপন সহ নির্বাচনী প্রচারে কত অর্থ প্রদান করতে হয়েছে সেই তথ্যের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে বিষয়বস্তু তৈরির ক্ষেত্রে ব্যয় হওয়া অর্থের পরিমাণও জানাতে হবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, রাজ্য পুলিশের নোডাল আধিকারিক, তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের নোডাল আধিকারিক এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯ মার্চ এ সংক্রান্ত এক বৈঠক করা হয়েছে। ভুল তথ্য, মিথ্যা তথ্য এবং ভুয়ো খবরের বিষয়ে তৎক্ষণাৎ অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিকে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
