ওয়েব ডেস্ক; ৯ জুন : চলতি বছরে ভারতের ব্রিকসের সভাপতিত্বের অংশ হিসেবে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমী INSA ব্রিকস বিজ্ঞান অ্যাকাডেমীগুলিকে নিয়ে প্রথম সম্মেলনের আয়োজন করল। ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মূল ভাবনা ছিল সুস্থিত উন্নয়নের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং দক্ষিণী বিশ্বের সহযোগিতা জোরদার করা। ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বেলারুশ, নাইজেরিয়া ও ভিয়েতনাম- এই ১০টি দেশ এই সম্মেলনে যোগ দেয়।
সম্মেলন পরিচালনা করে INSA-র সহ সভাপতি অধ্যাপক দেবাশিস মিত্র বলেন, ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের অঙ্গ হিসেবে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক এই কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে INSA-র প্রধান ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন তিনি।
প্রধান ফলাফল-
বিজ্ঞান ও সুস্থিত উন্নয়নের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক খসড়া ঘোষণাপত্র পর্যালোচনা
কম্পিউটিং পরিকাঠামো ভাগ করে নেওয়া, সহযোগিতামূলক ডেটা প্ল্যাটফর্ম এবং বহুভাষিক এ আই মডেল নিয়ে ঐকমত্য
যৌথ টাস্কফোর্স, গবেষকদের যাতায়াত সংক্রান্ত প্রকল্প এবং মুক্ত উৎসের বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান
ব্রিকস সায়েন্স অ্যাকাডেমীগুলির দ্বিতীয় বৈঠক ২২-২৩ জুলাই আইআইটি হায়দ্রাবাদে আয়োজনের বিষয়ে সহমত পোষণ
ভারত ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে। এবারের মূল ভাবনা- স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়ীত্বের জন্য নির্মাণ। INSA এক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার নেতৃত্ব দিচ্ছে। INSA-র সভাপতি অধ্যাপক শেখর সি মান্ডে বলেছেন, এই ফোরাম সংলাপের উর্ধে যেতে চায়। দক্ষিণী বিশ্ব জুড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থিত উন্নয়নের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এক বাস্তব হাতিয়ারে পরিণত করতেই হবে।
আইআইটি দিল্লির স্কুল অফ পাবলিক পলিসির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান অধ্যাপক অম্বুজ সাগর খসড়া ঘোষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতার অসম বন্টন এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে ডিজিটাল বিভাজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রে বৈজ্ঞানিক আবিস্কারকে তরান্বিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানো এবং এর সুফল দক্ষিণী বিশ্বের সর্বত্র সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই সম্মেলনের সুপারিশগুলি সংশোধিত খসড়া ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। INSA-র নির্বাহী পরিচালক ডঃ ব্রজেশ পান্ডে জানিয়েছেন, ব্রিকশ দেশগুলি ও তাদের অংশীদার দেশগুলির প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় বৈঠকের জন্য আইআইটি হায়দ্রাবাদে ২২-২৩ জুলাই মিলিত হবেন। সেখানেই ঘোষণাপত্রটি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা যায়।
