ওয়েব ডেস্ক; ২৮ মার্চ : কয়লা ক্ষেত্রে ভারতের আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে কয়লা মন্ত্রক ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর কয়লা খনি নিলামের একাদশতম পর্বের সূচনা করে। মোট ১২টি কয়লা খনি নিলামে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টির সম্পূর্ণ ভাবে এবং ৪টির আংশিক ভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে।
এই ১২টি খনিতে আনুমানিক প্রায় ৫৭৫.৯২৩ কোটি টন কয়লা মজুত আছে বলে মনে করা হচ্ছে। নিলামে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা গেছে, আয় ভাগাভাগির হার ৩৬.২৭ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে ভারতের কয়লা ক্ষেত্রের প্রতি শিল্পমহলের আগ্রহ এবং স্বচ্ছ ও সুস্থিত নীতি কাঠামো রচনায় মন্ত্রকের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়।
এই খনিগুলি থেকে বার্ষিক প্রায় ৩,৩৩০ কোটি টাকা আয় হবে (আংশিক অনুসন্ধান করা খনিগুলি ছাড়া) এবং এগুলিতে আনুমানিক ২,৩১৯ কোটি টাকার মূলধনী বিনিয়োগ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া এই খনিগুলিতে ২০,৯০২টি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
২০২০ সালে কয়লা খনির বাণিজ্যিক নিলামের সূচনা থেকে কয়লা মন্ত্রক এপর্যন্ত মোট ১২৫টি কয়লা খনির নিলাম করেছে। এগুলি থেকে বার্ষিক ২৭.৩০৬ কোটি টন কয়লা উত্তোলিত হবে। এগুলি দেশীয় কয়লা উৎপাদন এবং ভারতের জ্বালানি সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সব মিলিয়ে এই খনিগুলি থেকে বার্ষিক ৩৮,৭৬৭ কোটি টাকা আয় হবে, এগুলিতে ৪০,৯৬০ কোটি টাকার মূলধনী বিনিয়োগ হবে এবং প্রায় ৪ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৭০ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক কয়লা খনিগুলির উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১২.৫৫ টন। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে এপর্যন্ত এর পরিমাণ ২২.৩৫ টন। বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৮.১৪ শতাংশ।
কয়লা ক্ষেত্রকে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের অন্যতম মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে কয়লা মন্ত্রক এই সব উদ্যোগ নিয়েছে। কয়লার সুস্থিত ও ধারাবাহিক সরবরাহ দেশের জ্বালানি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুস্থিতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে গতি আনবে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনের পথ প্রশস্ত হবে।
