ওয়েব ডেস্ক; ৩১ ডিসেম্বর; কাশী তামিল সঙ্গমম-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুভাষ সরকার। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি আগত দর্শক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। বারাণসীর নমো ঘাটে আয়োজিত এক প্রদর্শনীও তিনি ঘুরে দেখেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনবিএ এনএএসি-র জাতীয় শিক্ষা প্রযুক্তি ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অনিল সহস্রবুদ্ধে এবং অন্যান্য বিশিষ্টজন।
কাশী তামিল সঙ্গমম-এর অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনাকালে ডঃ সরকার বলেন যে ঐতিহ্য, শিল্পকলা, সঙ্গীত, নৃত্য, সাহিত্য এবং অন্যান্য চারু ও কারুশিল্পের এই মিলনস্থলে উপস্থিত থাকা ভাগ্যের বিষয়। কারণ, এ সমস্ত কিছুর মধ্যেই প্রতিফলিত হয়েছে কাশী ও তামিলনাড়ুর বহু সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও শিল্পকলা। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন যে কাশী তামিল সঙ্গমম-এর মধ্য দিয়ে মূর্ত হয়ে উঠবে ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর চিন্তাভাবনা।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন যে কাশী ও তামিলনাড়ুর মধ্যে প্রাচীন যোগসূত্রের পুনরনুসন্ধান ও পুনরাবিষ্কার আমাদের সামনে জ্ঞানের জগতের এক মূল্যবান ভাণ্ডার খুলে দিতে পারে, মেধা জগৎ তথা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে যার গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্ধি ও অনুধাবনযোগ্য।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কাশী তামিল সঙ্গমম-এর প্রথম পর্যায়ের আয়োজন করা হয়েছিল ২০২২-এর ১৬ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ বছর দ্বিতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে ১৭-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তামিলনাড়ুর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২০০ জনের সাতটি গোষ্ঠী অর্থাৎ, প্রায় ১,৪০০ জনের এক প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করছে এবারের কাশী তামিল সঙ্গমম-এ। কাশীতে অবস্থানকালে তাঁরা তাঁদের সফরসূচি অনুযায়ী প্রয়াগরাজ ও অযোধ্যাও পরিদর্শন করে এসেছেন। এই সাতটি গোষ্ঠীর অন্যতম হল ‘গঙ্গা’, যাতে সামিল হয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। অন্যদিকে, শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত গোষ্ঠীর নাম হল ‘যমুনা’। পেশাদার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ‘গোদাবরী’ গোষ্ঠীর আওতায়। ‘সরস্বতী’ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত প্রতিনিধিরা হলেন আধ্যাত্মিক মতে বিশ্বাসী। কৃষক এবং কারিগরদের নিয়ে গঠিত গোষ্ঠীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘নর্মদা’। আবার, লেখকদের গোষ্ঠীটি ‘সিন্ধু’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিরা রয়েছেন ‘কাবেরী’ গোষ্ঠীতে। অর্থাৎ, ভারতের সাতটি পবিত্র নদীর নামানুসারে গোষ্ঠীগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
যাবতীয় উদ্যোগ আয়োজনের মূল দায়িত্ব বহন করেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। সহযোগী হিসেবে এই উদ্যোগে সামিল হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি; পর্যটন; রেল; বস্ত্র; খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ; ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অণু শিল্প; তথ্য ও সম্প্রচার; দক্ষতা বিকাশ ও শিল্পোদ্যোগ মন্ত্রক। এছাড়াও, আইআরসিটিসি এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিও সহযোগিতা করেছে কাশী তামিল সঙ্গমম-এর উদ্যোগ আয়োজনে।
