ওয়েব ডেস্ক; ১৪ অক্টোবর : ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর সাইক্লোন ওয়ার্নিং অ্যান্ড মেরিন ওয়েদার সার্ভিসেস ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম (ডিএসএস) অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা এবং আবহাওয়া পরিষেবা বিষয়ক সিদ্ধান্ত সহায়তা ব্যবস্থা আজ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছে। এটি একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ ওয়েব-জিআইএস (WebGIS) ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। আইএমডি-র মহানির্দেশক ডঃ মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্রের সভাপতিত্বে আয়োজিত ২০২৬ সালের বর্ষা-পরবর্তী মরসুমের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জন্য দ্বিবার্ষিক প্রাক-ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি বিষয়ক সভা চলাকালীন এই মঞ্চটির সূচনা করা হয়। সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য এই ডিএসএস প্ল্যাটফর্মটি আইএমডি-র ওয়েবসাইট এবং রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার (আরএসএমসি)-এর ওয়েবসাইট-এ পাওয়া যাবে।

ডিএসএস ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা (পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসে যা ধরা পড়ছে), অনিশ্চয়তার বলয় এবং জেলাভিত্তিক বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা প্রদর্শন করছে।

ডিএসএস হল একটি ব্যবহারকারী-বান্ধব ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্ল্যাটফর্ম, যা ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক আবহাওয়া সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক জায়গায় একত্রিত করে। এর ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজতর হয়।

ডিএসএস-এর মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতার পাশাপাশি বাতাসের বিস্তৃতি এবং জলোচ্ছ্বাসের সতর্কবার্তা প্রদর্শন করা হচ্ছে। এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আইএমডি অত্যন্ত তীব্র ঘূর্ণিঝড় ফাইলিন (২০১৩) এবং হুদহুদ (২০১৪)-এর বিষয়ে সফল পূর্বাভাস দিয়েছিল।

আইএমডি ২০০৮ সাল থেকে বছরে দুবার এই সভার আয়োজন করে আসছে। আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মরশুমের প্রস্তুতি পর্যালোচনা, পূর্ববর্তী গৃহীত পদক্ষেপগুলির অগ্রগতির মূল্যায়ন, আইএমডি-র সাম্প্রতিক উদ্যোগসমূহ তুলে ধরা এবং কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই আয়োজনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

এই বৈঠকে সারা দেশ থেকে ৩০টিরও বেশি সংস্থার প্রায় ২৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন; এর মধ্যে ১৮০ জন অনলাইনে এবং ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ছিল ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ), ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, ভারতীয় নৌবাহিনী, ভারতীয় বিমান বাহিনী, ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী, সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও মৎস্য দপ্তর। বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সংস্থাগুলোর মধ্যে ছিল ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (আইএমডি), ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টিং এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি। এছাড়া উপকূলীয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেমন পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরালা, কর্ণাটক, গোয়া, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, লাক্ষাদ্বীপ, দমন ও দিউ এবং দাদরা ও নগর হাভেলি থেকেও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। পাশাপাশি বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রক, ভারী শিল্প মন্ত্রক, উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ লাইট হাউস অ্যান্ড লাইট শিপস (ডিজিএলএল) সহ বিভিন্ন মন্ত্রক ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদাররাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *