ওয়েব ডেস্ক; ১৮ অক্টোবর : শিশুদের পুষ্টি ও খাদ্যসুরক্ষা আরও সুনিশ্চিত করতে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত খাদ্যপণ্যে সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ সংযোজন নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি ১৬ অক্টোবর, সংশ্লিষ্ট বিধিমালার সংশোধনী খসড়া ভারতের সরকারি গেজেটে প্রকাশ করেছে।
‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (ফুডস ফর ইনফ্যান্ট নিউট্রিশন) অ্যামেন্ডমেন্ট রেগুলেশনস, ২০২৬’ শীর্ষক এই খসড়া সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হলো, শিশুর জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত শর্করার সংস্পর্শ সীমিত করা এবং বয়সোপযোগী পুষ্টির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যপণ্যের গঠন নিশ্চিত করা।
বর্তমানে কার্যকর বিধিমালায় জন্ম থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন শ্রেণির খাদ্যপণ্যের পুষ্টিগত গঠন, গুণমান ও সুরক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত মানদণ্ড নির্ধারিত রয়েছে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে ল্যাকটোজ ও গ্লুকোজ পলিমারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুক্রোজ এবং/অথবা ফ্রুক্টোজ সংযোজনের অনুমতি রয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত খাদ্যপণ্যে সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ সংযোজনের ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। খসড়ায় প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, “ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত খাদ্যপণ্যে সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ সংযোজন করা যাবে না।”
শিশুর জীবনের প্রথম ছয় মাস সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে বয়সোপযোগী ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রস্তাবিত বিধিনিষেধের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ সংযোজন পরিহার করে এই বয়সের শিশুদের পুষ্টিগত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খাদ্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, অতিরিক্ত শর্করার প্রাথমিক সংস্পর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত জনস্বাস্থ্যগত উদ্বেগ, বিশেষত শৈশবের স্থূলতা ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বৃহত্তর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগকে সহায়তা করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
জীবনের প্রথম ছয় মাস শিশুকে একমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে প্রচলিত জনস্বাস্থ্য নির্দেশনার সঙ্গেও এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিশুদের খাদ্যপণ্যের মানদণ্ড আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংশোধনী উপযুক্ত শিশুখাদ্য প্রদানের অনুশীলনকে উৎসাহিত করতে চায়। পাশাপাশি, অল্পবয়সী শিশুদের সুনির্দিষ্ট পুষ্টিগত চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে খাদ্যপণ্যের উপাদান ও প্রস্তুতপ্রণালী নির্ধারণে উৎপাদকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
এই প্রস্তাবিত সংশোধনী বিজ্ঞানভিত্তিক খাদ্যমান নির্ধারণ, দায়িত্বশীল পণ্য প্রণয়ন এবং প্রতিরোধমূলক পুষ্টির ওপর এফএসএসএআই-এর গুরুত্বারোপের পরিচায়ক। জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের পুষ্টিগত সুস্থতা সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি দেশের বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খসড়া বিজ্ঞপ্তিটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিসহ সরকারি গেজেটের কপি জনসাধারণের জন্য উপলব্ধ হওয়ার তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আপত্তি ও পরামর্শ জমা দেওয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত মতামতগুলি পর্যালোচনা ও বিবেচনার পর সংশোধনীটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এফএসএসএআই।
