ওয়েব ডেস্ক; ২৬ আগস্ট: জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইনের মাধ্যমে চলতি বছরের জুলাই মাসে ২৭টি ক্ষেত্রে ৭ হাজার ২৫৬টি অভিযোগের নিষ্পত্তিতে ২.৭২ কোটি টাকা রিফান্ড দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এই বিষয়ে শীর্ষে রয়েছে ই-কমার্স ক্ষেত্র। এখানে ৩ হাজার ৫৯৪টি অভিযোগের নিষ্পত্তিতে ১.৩৪ কোটি টাকা রিফান্ড দেওয়া হয়েছে। এর পরেই রয়েছে পর্যটন ক্ষেত্র, যেখানে রিফান্ডের পরিমাণ ৩১ লক্ষ টাকা।

প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হেল্পলাইনের পরিধি ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। টেলিফোন গ্রহণের সংখ্যা ১০ গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে টেলিফোন গ্রহণের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৫৫৩। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৮। মাসিক গড় অভিযোগ নথিভুক্তির সংখ্যা ২০১৭ সালে ৩৭ হাজার ৬২ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৯৫১ হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণের হার ২০২৩ সালের মার্চে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ, চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে ২০ শতাংশ হয়েছে।

জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইন এমন এক সংযুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যেখানে উপভোক্তা, সরকারি সংস্থাগুলি, বেসরকারি কোম্পানী এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ একইমঞ্চে আসে। ২০১৭ সালে এর অংশীদারের সংখ্যা ছিল ২৬৩, বর্তমানে ১ হাজার ১৩১টি কোম্পানী এর সঙ্গে যুক্ত।

ক্রেতা সুরক্ষা এবং ন্যায়সঙ্গত ব্যবসার প্রসারকে মাথায় রেখে ভারত সরকারের উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর হেল্পলাইনের মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে। অভিযোগের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি হওয়া সত্ত্বেও যেসব কোম্পানীর এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দেয়নি তাদের চিহ্নিত করে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য এই প্ল্যাটফর্মে স্বেচ্ছায় যুক্ত হতে বলা হয়।

দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইন সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে অভিযোগগুলি সংশ্লিষ্ট কোম্পানীগুলির কাছে পাঠায়। কোম্পানীগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেগুলির নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। এর ফলে, স্বচ্ছতা, কর্পোরেট দায়বদ্ধতা এবং গ্রাহকদের আস্থা বাড়ে।

জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইন তার নিঃশুল্ক নম্বর ১৯১৫-এর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপকেও যুক্ত করেছে। প্রবল ব্যস্ততার কারণে অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপভোক্তার কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা চলে যায়, তারা সরাসরি তাদের অভিযোগ ওই প্ল্যাটফর্মে জানাতে পারেন।

মামলা মোকদ্দমা এড়িয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির এক নির্ঝঞ্ঝাট, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবেও উপভোক্তা হেল্পলাইন আত্মপ্রকাশ করেছে। ভারত সরকারের উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের এই উদ্যোগ, অভিযোগের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা আর্জন করেছে।

ডিজিটাল ক্ষমতায়ন, নাগরিককেন্দ্রিক পরিষেবা প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করে জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইন, বিকশিত ভারতের এক নিদর্শন হিসেবে দেখা দিয়েছে।