ওয়েব ডেস্ক; ৪ জুন : জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা (এন.এস.ও)-র ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার কলকাতার নিউটাউনে একটি সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করে পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক (এম.ও.এস.পি.আই.)। নিউটাউনের প্রায় ৫০টি আবাসন সমিতির প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি পরিসংখ্যান জরিপের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং এন.এস.ও.-র কর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো।

এন.এস.ও. দেশের সরকারি পরিসংখ্যান সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং প্রকাশের প্রধান সংস্থা। এটি সারা দেশে পরিবার ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন জরিপ করে। এই তথ্যগুলি জাতীয় আয় নির্ধারণ, নীতিনির্ধারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সকলকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর উপ-মহানির্দেশক নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় এবং সৌরভ চক্রবর্তী এন.এস.ও. এবং মন্ত্রকের কাজ ও দায়িত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাঁরা তুলে ধরেন কীভাবে পরিসংখ্যান ব্যবস্থা জাতীয় পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণে সহায়তা করে।

মূল বক্তব্যে অতিরিক্ত মহা-পরিচালক (ইএন.এস.ডি.) সলিল কুমার মুখোপাধ্যায় এন.এস.ও.-র জরিপগুলির ব্যাপ্তি এবং গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত তথ্য জাতীয় স্তরে বিশ্লেষণ করে উন্নয়নমূলক নীতি প্রণয়নে ব্যবহার হয়।

ভারতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক বিমল রায় ব্যাখ্যা করেন কীভাবে নমুনা জরিপগুলি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, যা সঠিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্য নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, শুধু জনগণনা-ভিত্তিক তথ্যের উপর নির্ভর করলে অনেক সীমাবদ্ধতা থেকে যায়।

উপ-মহানির্দেশক সঞ্জীব বসু বলেন, সঠিকভাবে জরিপ চালাতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা খুব জরুরি। তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শোনান, যেখানে প্রথমে অনীহা থাকলেও সচেতনতা বাড়ালে মানুষ সহযোগিতা করেছেন।

সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর প্রাক্তন ডি.আই.জি সমীর মিত্র এন.এস.ও.-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সময়ে যখন ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, তখন জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন আবাসন সমিতির প্রতিনিধিরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন এবং পরামর্শ দেন। অনেকে জানান, শহরে বেড়ে চলা প্রতারণার কারণে জরিপকর্মীদের সঠিকভাবে চেনার উপায় থাকা প্রয়োজন। সকলেই এন.এস.ও.-র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন আরও কর্মসূচির আবেদন করেন।

অবশেষে এন.এস.ও.-র উপ-নির্দেশক চিন্নিভেই হাওকিপ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এই সচেতনতা কর্মসূচি দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সঙ্গে জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।