ওয়েব ডেস্ক ; ১ মার্চ : ‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কৃত হওয়া উপলক্ষ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে জাতীয় বিজ্ঞান দিবস উদযাপিত হয়। কলকাতার ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সের পরীক্ষাগারে গবেষণা করে পদার্থবিদ স্যার সি ভি রমন বিজ্ঞানের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আবিষ্কার করেছিলেন। এর জন্য ১৯৩০-এ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।

প্রথমবার বিজ্ঞান দিবস–এর উদযাপন হয় ১৯৮৭ সালে। এ বছরের মূল ভাবনা ‘বিকশিত ভারতের নির্মাণের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনার ক্ষেত্রে ভারতীয় তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বের শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তোলা।’

জাতীয় বিজ্ঞান দিবস উদযাপনের মূল লক্ষ্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান এবং তার প্রয়োগের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতার প্রসার। বিষয়গুলিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অগ্রগতি : ২০২৪-এর মূল বিষয়গুলি

উদ্ভাবনা এবং মেধাস্বত্ত্বের নিরিখে ভারতের স্থান :

গ্লোবাল ইনেভেশন ইনডেক্স ২০২৪-এ ভারতের স্থান ৩৯। বিশ্ব মেধাস্বত্ত্ব সূচকে ভারত ষষ্ঠ স্থানে বলে জানিয়েছে ডব্লুআইপিও-র প্রতিবেদন। ২০২৪-এর নেটওয়ার্ক রেডিনেস ইনডেক্স তালিকায় ভারত রয়েছে ৪৯ নম্বরে- যেখানে ২০১৯-এ ছিল ৭৯-তম স্থানে।

অনুসন্ধান জাতীয় গবেষণা ফাউন্ডেশন : গবেষণা ও অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ
অনুসন্ধান জাতীয় গবেষণা ফাউন্ডেশন আইন ২০২৩-এর আওতায় গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠান ভারতের গবেষণা পরিমণ্ডলকে জোরদার করে তুলছে। এজন্য তরুণ গবেষকদের চিহ্নিত করে সহায়তা প্রদান, বৈদ্যুতিক যান প্রযুক্তির প্রসার সহ নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে একের পর এক উদ্যোগ নিয়ে চলেছে সরকার। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এ দেশকে শীর্ষস্থানে নিয়ে যেতে ন্যাশনাল কোয়ান্টাম মিশন খাতে ৮ বছর মেয়াদে ৬০০৩.৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। ১৭টি রাজ্য এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের ১৫২ জন গবেষক এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। স্টার্টআপ সংস্থাগুলিকেও নানানভাবে সহায়তা করা হচ্ছে এই কর্মসূচির আওতায়।

জাতীয় সুপার কম্পিউটিং মিশনের আওতায় কাজ চলছে জোর কদমে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের ইন্সপায়ার কর্মসূচির লক্ষ্য বিজ্ঞানের নানা শাখায় গবেষণা করার জন্য তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করে তোলা। ২০২৫ সাল থেকে এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারাও।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মেয়েদের আরও অংশগ্রহণ কাম্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ওয়াইজ-কিরণ নামে একটি প্রকল্প সম্প্রতি চালু করেছে। এছাড়াও রয়েছে বিজ্ঞান জ্যোতি কর্মসূচি সহ একাধিক প্রকল্প।

বিজ্ঞান গবেষণায় প্রাচীন ভারত উৎকর্ষের শিখরে উঠেছিল একসময়। আধুনিক গণিতের অন্যতম মূল ভিত্তি ‘শূন্য’-এর ধারণা বিশ্বকে উপহার দিয়েছিলেন আর্যভট্ট। দশমিক প্রণালীও আবিষ্কৃত হয়েছে ভারতে। ভারতের সনাতন চিকিৎসা বিজ্ঞানও ছিল অত্যন্ত উন্নত।