কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর : ক্যান্সার জীবনের গল্পে এক কঠিন অধ্যায় হয়ে আসতে পারে, কিন্তু জীবনের প্রতি ভালোবাসা, আশা ও সাহসকে থামিয়ে দিতে পারে না। এই লড়াইয়ের প্রতিটি মুহূর্তে চিকিৎসার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে মানসিক শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস। এই ভাবনাকেই সামনে রেখে মণিপাল হাসপাতাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার আয়োজন করল ‘ ক্যান্সার ওয়ারিয়র স্পোর্টস সামিট ~ জিন্দেগি জিন্দাবাদ’। ক্যান্সার যোদ্ধাদের একত্রিত করে এই উদ্যোগ হয়ে উঠেছিল সাহস, বন্ধুত্ব এবং জীবনের অদম্য স্পৃহার এক প্রাণবন্ত উদযাপন।
সামিটের মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ক্যান্সার যোদ্ধারা চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল দিক থেকে কিছুটা দূরে এসে অংশগ্রহণ, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। ক্যারম, দাবা, রিং টস, ব্রেন টিজার, জাম্বলড ওয়ার্ডস, অন্তাক্ষরী, মিউজিক অ্যান্ড মস্তি-সহ নানা মজার খেলা ও কার্যকলাপের মাধ্যমে ক্যানসারের চিকিৎসার সময়ও শারীরিকভাবে সক্রিয়, মানসিকভাবে সচেতন এবং সামাজিকভাবে যুক্ত থাকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এটি শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান ছিল না; বরং মনে করিয়ে দিয়েছে যে ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালীন এবং চিকিৎসার পরেও জীবন উদ্দেশ্য, হাসি, আশা এবং অর্থবহ অভিজ্ঞতায় ভরে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠানে মণিপাল হাসপাতাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার-এর বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডা. সৌরভ দত্ত, ডিরেক্টর, মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার, ব্রডওয়ে এবং মুকুন্দপুর ক্লাস্টার, কলকাতা; ডা. নেহা চৌধুরী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড এইচওডি, ব্রেস্ট সার্জারি; ডা. দেবাঞ্জলি দত্ত, অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট, রেডিয়েশন অনকোলজি; ডা. পূজা আগরওয়াল, কনসালট্যান্ট, ব্রেস্ট সার্জারি; ডা. রাজীব দে, ক্লিনিক্যাল লিড অ্যান্ড সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি, হেমাটো-অনকোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট; ডা. অরুণাভ রায়, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড হেড, গাইনিকোলজিক্যাল অনকোলজি; ডা. হর্ষ ধর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড এইচওডি, হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি এবং ডা. কিনশুক চট্টোপাধ্যায়, কনসালট্যান্ট, হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি। চিকিৎসকেরা সামিটে অংশ নেন এবং ক্যানসার যোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা এমন একটি সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যেখানে শুধু রোগ নয়, রোগীর শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক সুস্থতার দিকগুলিও সমান গুরুত্ব পায়।
