শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ২১ এপ্রিল, শুভাবরি ব্যুরো:
কলকাতার অন্যতম প্রাচীন সরকারি হসপিটাল “আর জি কর”। পুরো হসপিটালে চালচিত্র কোনোভাবেই তার বাইরে চাকচিক্যের সাথে মিলছে না।
যেমন দেখা গেল ডঃ বিধানচন্দ্র রায় ক্যাজুয়ালটি ব্লকের ছয় তলায়। সেখানে মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট ব্লকের বাইরে বিনা প্রতিরোধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েকটি বেড়াল। তাদের অবাধ বিচরণ রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ব্লকের ভেতরে, এমনকি ডাক্তারের চেম্বারের ভেতরেও।


হসপিটালের নিচে এসে দেখা গেল রোগীর প্রিয়জনেরা এই ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বিভিন্ন সেডের নিচে রাত্রি যাপনের জন্য আশ্রয় নিয়েছেন যত্রতত্র। একেবারে দস্তুর মত সরকারি হাসপাতাল, যা দশ বছর আগে দেখা যেত। তবে মন্দের ভালো, অনেকের মুখে শোনা গেল, করিডরের মধ্যে যে খালি বেডগুলো রাখা রয়েছে সেখানে কিছুদিন আগেও রোগী রেখে চিকিৎসা করা হতো। কিন্তু স্বাস্থ্য সাথী কার্ড চালু হওয়ার পরে রোগীদের এই মুখো হওয়া অনেকটাই কমেছে।
হসপিটাল গেটের বাঁদিকে এক অসাধারণ দৃশ্য। রোগীদের ব্যবহৃত জামা-কাপড়, থালা-বাসনগুলো একজন মহিলা কর্মী নিয়ে এসে ডাস্টবিনের ভেতরে না ফেলে একেবারে সার দিয়ে রেখে দিলেন। চমক ভাঙলো, দেখা গেল একজন বছর ২৫-২৬ এর যুবক অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে ওই প্লাস্টিকগুলোর মধ্য থেকে বার করে নিচ্ছে রোগীদের জামাকাপড় এবং আরো কিছু জিনিসপত্র। কিন্তু প্লাস্টিকগুলো ফেলে দেওয়ার নিয়ম ডাস্টবিনের মধ্যে। আসলে এটা হচ্ছে এই দুই শ্রেণীর মধ্যে একটা বোঝাপড়া।

স্বাস্থ্য দপ্তর কি বলবেন এ বিষয়ে? রোগ ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে এটা কি যথেষ্ট নয়? বিড়াল যেসব রোগ বহন করে সেগুলো মুমূর্ষু রোগীদের ঘরের মধ্যে ঘোরাফেরা করাতে জনস্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে?
এই মুহূর্তে যখন আবার করোনার প্রভাব বাড়ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিষেবা উন্নতি করার চেষ্টা করছেন তখন ১০০ বছর অতিক্রম করা এই হসপিটালের এই অবস্থা স্বাস্থ্য দপ্তরের নজর এড়িয়ে কিভাবে রয়েছে?
এটা পরিষ্কার যে হসপিটালে ভেতর থেকে রোগীর ব্যবহার করা জিনিসপত্র ( সে রোগী মারা গিয়েও থাকতে পারেন), বাইরের একটি মানুষ তুলে নিচ্ছেন। এর ফলে সেই রোগীর সক্রামন এই ব্যক্তিকে সংক্রামিত করতে পারেনা, সমাজে রোগ ছড়াবে না??
