ওয়েব ডেস্ক; ২২ সেপ্টেম্বর : মহিলাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা প্রচার এবং পরিবারের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে কলকাতার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথি (এনআইএইচ)-এর বহির্বিভাগে পরিচালক, চিকিৎসক, নার্স, পিজিটি এবং অন্যান্য কর্মীদের উদ্যোগে “সুস্থ নারী সক্ষম পরিবার অভিযান”-এর অন্তর্গত একটি কর্মশিবিরের আয়োজন করা হয়।
ডেপুটি মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অস্টিন জোস টি-র উদ্বোধনী বক্তৃতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তিনি উপস্থিতদের স্বাগত জানান এবং পরিবার ও সমাজের সার্বিক ভালো থাকার জন্য নারীর স্বাস্থ্যের গুরুত্বের কথা বলেন।
এরপর এনআইএইচ-এর পরিচালক ডাঃ প্রলয় শর্মা সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি এই অভিযানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন এবং মহিলাদের সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে বিশদে আলোচনা করেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং সমাজে স্বাস্থ্য-সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
এই উপলক্ষে তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ (আইইসি) বিষয়ক প্রচারপত্র মহিলা রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল—
- হাত পরিচ্ছন্ন রাখার নিয়ম
- রক্তাল্পতা প্রতিরোধ
- সার্ভিকাল বা জরায়ুমুখের ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা
এরপর যোগ গুরু সজল মান্না যোগাভ্যাস প্রদর্শন করেন। স্থূলতা, থাইরয়েড সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহজ ও কার্যকর যোগপদ্ধতি তিনি সকলের সামনে তুলে ধরেন।
নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট পুষ্কর সিং জাত-এর বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। তিনি সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন এবং অভ্যাস গুলি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।
প্রায় ৫০০ জন মহিলা এই উদ্যোগের সুফল পেয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা জানান, তাঁরা মূল্যবান তথ্য লাভ করেছেন—
- জীবনযাত্রা জনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে যোগাভ্যাস
- রক্তাল্পতা রোধে খাদ্যাভ্যাস
তাঁরা ইতিবাচক মতামত দেন এবং একটি সুস্থ ও সক্ষম সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই জ্ঞান তাঁরা নিজস্ব পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার গ্রহণ করেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (বুধবার) এনআইএইচ, কলকাতার চিকিৎসক, সেবা কর্মী ও পিজিটিদের উদ্যোগে একই ধরনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এনআইএইচ-এর বালুরঘাট পেরিফেরাল বহির্বিভাগে। কর্মশিবিরের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এবং বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ডাঃ সুকান্ত মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন এনআইএইচ-এর পরিচালক ডাঃ প্রলয় শর্মা, ডেপুটি মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও হাসপাতালের প্রধান ডাঃ অস্টিন জোস টি, সহকারি অধ্যাপক ও পিওপিডি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাঃ রামকৃষ্ণ ঘোষ, সহকারি গবেষণা কর্মকর্তা ডাঃ সুনৃতা দাস, বরিষ্ঠ নার্সিং অফিসার ও পিজিটি-রা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রদেশ থেকে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
অনুষ্ঠানে—
- রোগীদের ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং, শর্করা ও উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- ক্যানসার সচেতনতা অধিবেশন, যেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব বোঝানো হয়।
- হাত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে প্রচারপত্র বিতরণ ও বাস্তব প্রদর্শন হয়।
- রোগীদের বিনামূল্যে হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এই উদ্যোগে যেমন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হয়, তেমনি ‘সুস্থ নারী সক্ষম পরিবার’ অভিযানের লক্ষ্য অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর, এনআইএইচ, কলকাতার একটি বিশেষ দল, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক (ডাঃ) প্রশান্ত রথ-এর নেতৃত্বে, টালিগঞ্জের বিবেকানন্দ আদর্শ মিলন মন্দির স্কুলে স্বাস্থ্য-সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল শিশুদের স্থূলতা প্রতিরোধ ও স্কুল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস প্রচার।
দলে ছিলেন সহকারি অধ্যাপক ও পিজিটি-রা—ডাঃ অনিরুদ্ধ নাগ, ডাঃ জগন্নাথ মেহের, ডাঃ শাওলি দাস, ডাঃ সুপ্রীত বিসওয়াল, ডাঃ জ্যোতির্ময় পরামানিক।
অধিবেশনে শিশুদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে নুন, চিনি ও তেলের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে স্থূলতা প্রতিরোধের উপর জোর দেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীদের সহজ ভাষায় ও অংশগ্রহণমূলক উপায়ে স্বাস্থ্যকর বিকল্প খাদ্যের সঙ্গে পরিচিত করানো হয়, যাতে সর্বাধিক বোঝাপড়া ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
এছাড়াও, দলটি—
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার পদ্ধতি প্রদর্শন করে।
- শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য নানা যোগাভ্যাস দেখায়।
স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি বিপুল সমর্থন পেয়েছে। এনআইএইচ-এর পরিচালক ডাঃ প্রলয় শর্মা বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্কুল পরিচালনার প্রতি, বিশেষত—
- সুপ্রতীপ চক্রবর্তী, সম্পাদক
- বিজয় দে, সহ-সভাপতি
- সনাতন মহাকুদ, যোগ শিক্ষক — যাঁদের সক্রিয় সমর্থনে অনুষ্ঠান সফল হয়।
তাঁদের উদ্যোগ কর্মশিবির সার্থক ও সফল হয় ওঠে।
