ওয়েব ডেস্ক; ২৮ জানুয়ারি : টেফ্রিটাইডি প্রজাতির মাছি কৃষিকাজ এবং উদ্যানপালনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সমস্যার কারণ। এ ধরনের মাছি শুধু ফসলের ক্ষতিই করে না, খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রজাতির মাছিকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলের গবেষকরা কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা চালান। বিভিন্ন ফসলে যেসব মাছি ক্ষতিসাধন করে তাদের নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। এরপর, সেগুলির মাইটোকন্ড্রিয়াল সিওআই জিনের বিন্যাস নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেন। গবেষকরা মাছিগুলির জিনের নিউক্লিওটাইড-এ ৩০টি অভিনব পরিবর্তনশীল স্থান চিহ্নিত করেছেন। সেখান থেকে ফসলের জন্য ক্ষতিকারক মাছিদের শনাক্ত করতে সুবিধা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন বিএমসি জেনোমিক্স-নামক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার নির্দেশক ডঃ ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় এই গবেষণার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলের ৭০ শতাংশ মানুষের জীবন ও জীবিকা কৃষি-নির্ভর। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের এই গবেষণা চালানোর ফলে ক্ষতিকারক মাছি চিহ্নিত করা সহজ হবে। ফলে, ফসলের ক্ষতি যেমন সহজেই আটকানো যাবে, পাশাপাশি অহেতুক রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগের ওপর নিরিভরতাও কমবে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ মধুসুদন দাস জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্যকর খাবারের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। এক্ষেত্রে সুস্থায়ী কৃষিকাজের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষিকাজে ক্ষতিকারক মাছিদের প্রজাতিকে চিহ্নিত করতে পারলে রাসায়নিক কীটনাশকের অপব্যবহার রোধ করা যাবে এবং একইসঙ্গে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
