ওয়েব ডেস্ক; ২১ মার্চ: বিএসএফ জওয়ানরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একদিনে দুটি ভিন্ন স্থানে প্রচুর পরিমান সোনা আটক করে চোরাকারবারিদের পিঠ ভেঙে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে, গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে, বিএসএফ জওয়ানরা, দুটি পৃথক অভিযানে, পশ্চিমবঙ্গের জেলা-উত্তর ২৪ পরগণার সীমান্ত এলাকায় সোনা চোরাচালানের চেষ্টা নস্যাৎ করে।বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় এক বাংলাদেশীকে এবং একজন ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।পাচারকারীকে ৮ টি সোনার বিস্কুট, ৪টি সোনার ইট এবং ৪ টি ছোট সোনার টুকরোসহ গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা সোনার মোট ওজন ১৪১০,৭৪ গ্রাম এবং মোট আনুমানিক মূল্য ৯৪৬৮৫০১/- টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি আইসিপি পেট্রাপোলের, যা চোরাচালানের দিক থেকে সবচেয়ে স্পর্শকাতর। ১৪৫ ব্যাটালিয়নের আইসিপি পেট্রাপোলের সতর্ক কর্মীরা, বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের রুটিন চেকিংয়ের সময়, আনিসুজ্জামান আনিস নামে একজন বাংলাদেশী যাত্রীকে চেক করার জন্য থামান। তার তল্লাশির সময়, মেটাল ডিটেক্টর তার পাসপোর্টে কিছু ধাতব পদার্থের উপস্থিতি নির্দেশ করে। পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হলে সোনার তৈরি একটি জাল এটিএম কার্ড পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীকে যাত্রী টার্মিনালে অবস্থিত বিএসএফ অফিসে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে যাত্রীর কাছ থেকে ২টি সোনার বিস্কুট ও ৩টি হাফ সাইজের সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। একটি তার জিহ্বার নীচে এবং অন্যটি তার অন্ডকোষ এবং মলদ্বারের মধ্যে লুকিয়ে ছিল।

যেখানে একই দিনে দ্বিতীয় ঘটনায়, ৬৮ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি রাংঘাটের সৈন্যরা স্বর্ণ চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ১৯ মার্চ , সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযানে ৪টি সোনার বার এবং ৬টি বিস্কুট সহ একজন চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯ সে মার্চ, বিএসএফ জওয়ানরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচারের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর পেয়েছিলেন। খবরের ভিত্তিতে, সৈন্যরা একটি বিশেষ অ্যামবুশ স্থাপন করে। সৈন্যরা একটি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি সাইকেলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর আসতে দেখেছিল। বিএসএফ জওয়ানদের দেখে পালাতে শুরু করলে সৈন্যরা তাকে ধরে ফেলে। তল্লাশিকালে তার উরুতে বাঁধা একটি কাপড় থেকে ৯৪৮ গ্রাম ওজনের ৪টি স্বর্ণের বার ও ৬ টি বিস্কুট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারীরা হলেন- আনিস আনিসুজ্জামান, পিতা- শফিকুল ইসলাম, গ্রাম- হাসানপুর, জেলা- কুমিল্লা, বাংলাদেশ এবং বিজয় তরফদার, পিতা- মন্টু তরফদার, গ্রাম কুলিয়া, জেলা- উত্তর ২২৪পরগনা, ভারত।

গ্রেফতারকৃত দুই পাচারকারী ও জব্দকৃত স্বর্ণ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।