ওয়েব ডেস্ক; ৯ এপ্রিল : বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে, ইস্টার্ন রেলওয়ের হাওড়া বিভাগ সুরেন্দ্রনাথ কলেজ এনসিসি (NCC) সাব-ইউনিট এবং ২ বেঙ্গল ব্যাটালিয়ন এনসিসি-এর সহযোগিতায় গত ৮ই এপ্রিল হাওড়া রেল স্টেশনে একটি সচেতনতা অভিযান ও জনউন্নয়ন কর্মসূচির আয়োজন করে। “পৃথিবী রক্ষা – স্বাস্থ্য সচেতনতা অভিযান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল জনসাধারণের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শোভা বর্ধন করেন মেজর জেনারেল অমরপাল সিং চাহাল, এস.এম., এডিজি (ADG), পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম এনসিসি নির্দেশালয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া বিভাগের এডিআরএম (প্রশাসন) উদয় কুমার কেশরী; সিনিয়র ডিএমই সত্যেন্দ্র কুমার তিওয়ারি; কলকাতা-বি গ্রুপের গ্রুপ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার যোগেশ কুলকার্নি; ২ বেঙ্গল ব্যাটালিয়ন এনসিসি-এর কমান্ডিং অফিসার কর্নেল অভিজিৎ দাস; অভিনেত্রী, মডেল ও ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ উষসী সেনগুপ্ত; এবং অভিনেত্রী, সমাজকর্মী ও ‘মিসেস ইন্ডিয়া ২০২১’ মধুমিতা গুপ্ত।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং এরপর এনসিসি ক্যাডেটদের পরিবেশিত একটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ—শুরুতে প্রধান অতিথি এবং একে একে অন্যান্য সম্মানিত অতিথিবৃন্দ—তাঁদের উপস্থিতি ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংবর্ধিত হন।
এরপর প্রধান অতিথি, উষসী সেনগুপ্ত, মধুমিতা গুপ্ত এবং হাওড়া বিভাগের সিনিয়র ডিএমই তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য পেশ করেন। তাঁরা পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকার ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল “বড় ঘড়ি” নামক একটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ, যা এই আয়োজনে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক মাত্রা যোগ করে। এছাড়া এনসিসি ক্যাডেটদের পরিবেশিত একটি জোরালো ‘পথনাটিকা’ (Nukkad Natak) ছিল এই কর্মসূচির আরেকটি উল্লেখযোগ্য অংশ; যার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা অত্যন্ত কার্যকরভাবে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা একটি অর্থবহ ও প্রাণবন্ত কর্মসূচির উপযুক্ত পরিসমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই উদ্যোগে এনসিসি ক্যাডেট, রেলকর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করেন; যা জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি হাওড়া বিভাগের অঙ্গীকারকে পুনরায় সুদৃঢ় করে।
