ওয়েব ডেস্ক; কলকাতা, ২৮ আগস্ট : ২৭ বছর বয়সী যুবক, অমান গুপ্ত (নাম পরিবর্তিত), ৪ আগস্ট ২০২৫-এ স্থানীয় টার্ফ গ্রাউন্ডে ফুটবল খেলার সময় হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। বন্ধুদের তৎপরতা এবং মণিপাল হাসপাতাল, সল্টলেকের বিশেষজ্ঞ জরুরি পরিষেবার জন্য অমানের জীবন সংকটময় মুহূর্তে রক্ষা পায়।
অমান, যিনি একজন ক্রীড়াপ্রেমী এবং সক্রিয় জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন, গভীর রাতে ফুটবল ম্যাচ খেলার সময় হঠাৎ তীব্র বুকে ও হাতে ব্যথা নিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর বন্ধুরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং প্রবল বর্ষা ও প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করা হয়। রাত ২টার মধ্যে তাঁকে ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে মণিপাল হাসপাতাল, সল্টলেকের সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ রাজা নাগ সফলভাবে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সম্পন্ন করেন।
পরবর্তী পরীক্ষায় জানা যায়, অমানের মধ্যে হৃদ্রোগের একটি নীরব জেনেটিক ঝুঁকি ছিল – তাঁর বাবারও অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল – যার ব্যাপারে অমান নিজে অজ্ঞ ছিলেন। সুস্থ-সবল হওয়া সত্ত্বেও এই লুকানো ঝুঁকি তাঁর প্রাণ কেড়ে নিতে বসেছিল।
ডাঃ রাজা নাগ বলেন: “হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। রোগী আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তাঁকে জরুরি বিভাগে স্থিতিশীল করি এবং দ্রুত ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে যাই। এঞ্জিওগ্রামে দেখা যায় ডান দিকের করোনারি ধমনিতে থ্রম্বাস রয়েছে। আমরা থ্রম্বোসাকশন করে রক্তের জমাট সরাই এবং স্টেন্ট ব্যবহার না করে ওষুধ-লেপিত বেলুন দিয়ে ব্লকেজ চিকিৎসা করি। এতে ভবিষ্যতে জটিলতার ঝুঁকি কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল অত্যন্ত ভালো হয়। রোগী অসাধারণভাবে সেরে ওঠেন এবং দুই দিনের মধ্যেই ছুটি পেয়ে যান।”
আজ অমান আবার কাজে ফিরেছেন এবং ফলো-আপ রিভিউয়ের পর তিনি ফুটবল খেলা শুরু করতে পারবেন। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে অমান বলেন: “এটি ভয়ঙ্কর মুহূর্ত ছিল, এক মুহূর্ত আমি খেলছিলাম আর পরের মুহূর্তেই প্রচণ্ড বুকে ব্যথা নিয়ে মাটিতে পড়ে গেলাম। আমার বন্ধুরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে ডাক্তাররা সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা করেন। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সহজেই সম্পন্ন হয় এবং দুই দিনের মধ্যেই আমি বাড়ি ফিরে যাই। এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য উদগ্রীব। আমি চিকিৎসক দলকে কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে দ্বিতীয়বার জীবনের সুযোগ দিয়েছেন।”
