ওয়েব ডেস্ক; ৫ আগস্ট : দেশজুড়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা কর্মসূচি বা ন্যাশনাল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম (এনএমএইচপি) বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মাধ্যমে ৭৬৭টি জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। জেলাস্তরের মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এইসব কেন্দ্রে বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। যাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি অনেক বেশি, তাঁদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলি থেকে ওষুধ, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সহ নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এনএমএইচপি-র টার্শিয়ারি কেয়ার ব্যবস্থাপনার আওতায় ২৫টি উৎকর্ষকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ১৯টি সরকারি মেডিকেল কলেজে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার জন্য ৪৭টি স্নাতকোত্তর বিভাগকে আরও উন্নত করা হচ্ছে। ভারতের পুনর্বাসন পরিষদ বা রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার তথ্য অনুসারে, বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে পড়াশোনার জন্য ৬৯টি প্রতিষ্ঠানে এম-ফিল, ডিপ্লোমা, ডক্টর অফ সাইকলজি-র মতো পাঠক্রম রয়েছে। এছাড়াও, ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রিহ্যাবিলিটেশন সাইকলজি নিয়ে পড়ানো হয়। পাশাপাশি, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ক্লিনিকাল সাইকলজি নিয়ে বি.এস.সি. এবং ক্লিনিকাল সাইকলজির ওপর এম.এ. পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১ লক্ষ ৭৭ হাজার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে উন্নীত করা হয়েছে। এইসব কেন্দ্রে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা করা হয়। এছাড়াও, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ন্যাশনাল টেলি-মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম-এর সূচনা করা হয়। ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ৫৩টি টেলি-মানস সেল গঠন করেছে, যেখানে টেলিফোনের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে, ২৩,৮২,০০০-র বেশি ফোন কল গ্রহণ করা হয়েছে। টেলি-মানস পরিষেবার আওতায় সরকার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে চিকিৎসকদের পরামর্শদানের ব্যবস্থা করেছে।
লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব।
