ওয়েব ডেস্ক; ১৯ সেপ্টেম্বর: ১৮ সেপ্টেম্বর, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের অধীন ৬৮ ব্যাটালিয়নের সীমা চৌকি রানঘাটের সতর্ক জওয়ানরা এক বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে, জওয়ানরা তাদের দায়িত্বের এলাকা থেকে ৫০টি সোনার বিস্কুট এবং ১৬ টি সোনার বারসহ এক চোরাকারবারীকে আটক করেছে। জব্দ করা সোনার ওজন ২৩ কেজি এবং এর আনুমানিক মূল্য ১৪ কোটি টাকা। চোরাকারবারিরা এই সোনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনার চেষ্টা করছিল।

প্রকৃতপক্ষে, ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সীমান্ত চৌকি রানঘাটের জওয়ানরা নিশ্চিত খবর পান যে তাদের এলাকায় অবস্থিত ভ্যান মোড দিয়ে সোনার বিশাল পাচার হতে চলেছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে কমান্ডারের নেতৃত্বে একদল জোয়ান তৎক্ষণাৎ ভ্যান মোডে পৌঁছে রাস্তার ধারে আম্বুশ স্থাপন করে। কিছুক্ষণ পরেই, জওয়ানরা এক সন্দেহজনক বাইক আরোহীকে ভ্যান মোড়ের দিকে আসতে দেখে। বাইক আরোহী কাছাকাছি এলে জওয়ানরা তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ব্যক্তি ঘাবড়ে যায় এবং বাইক ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সতর্ক জওয়ানরা ঘটনাস্থলেই তাকে ধরে ফেলে এবং বাইকসহ সীমান্ত চৌকি রানঘাটে নিয়ে আসে।

চৌকিতে পৌঁছে জওয়ানরা বাইকটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করে। তল্লাশির সময় জওয়ানরা বাইকের এয়ার ফিল্টার থেকে সোনার বিশাল চালান খুঁজে পায়। জওয়ানরা সোনা বাজেয়াপ্ত করে। গ্রেফতার পাচারকারীর পরিচয় ইন্দ্রজিৎ পাত্র, (বয়স ২৩ বছর), পিতা প্রদীপ পাত্র, গ্রাম কুলিয়া, জেলা উত্তর ২৪ পরগনা বলে জানা যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে চোরাকারবারী জানায়, অলডাঙ্গা গ্রামে তার ভাইয়ের একটি জুয়েলারি দোকান রয়েছে এবং সে তার ভাইয়ের সাথে জুয়েলারির কাজ করে। সে আরও জানায়, কিছুদিন আগে রানঘাট গ্রামের বাসিন্দা সমীর (বয়স ৫০) তার সঙ্গে দেখা করে। রানঘাট থেকে বনগাঁয় সোনা পৌঁছনোর জন্য সমীর তার সঙ্গে চুক্তি করেছিল। সে সমীরের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা পাওয়ার প্রস্তাব পান। আজ সমীর কুলিয়া গ্রামে তার বাড়ির কাছে এই সোনা তার হাতে তুলে দেয় । এরপর সে এই সোনা বাইকের এয়ার ফিল্টারে লুকিয়ে ভ্যান মোড় হয়ে বনগাঁয় নিয়ে যাচ্ছিল।

গ্রেফতার চোরাকারবারী ও বাজেয়াপ্ত সোনা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাগদা কাস্টম অফিসে হস্তান্তর করা হচ্ছে ।
উল্লেখ্য যে গত বছর, বিএসএফ-এর দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ১১৪ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করেছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত ১২০ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করেছে।
এ কে আর্য, ডিআইজি, বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের জনসংযোগ আধিকারিক, জোয়ানদের এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বড় স্তরের চোরাকারবারিরা গরিব ও নিরীহ মানুষকে অল্প টাকার প্রলোভন দিয়ে ফাঁদে ফেলে। বড় স্তরের চোরাকারবারিরা চোরাচালানের সময় প্রত্যক্ষ রূপে জড়িত থাকে না, তারা এই কাজের জন্য গরিব মানুষকে টার্গেট করে।