ওয়েব ডেস্ক; ১৯ এপ্রিল :

মূল বিষয়গুলি:
ভারতে ৬৭.১ শতাংশ শিশু এবং ৫৯.১ শতাংশ কিশোরী মেয়ে রক্তাল্পতায় ভোগে।
প্রতি ৪ জন ভারতীয় মহিলার মধ্যে ৩ জনের খাবারে আয়রন গ্রহণের হার কম।
অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত ৬x৬x৬ কৌশল ব্যবহার করে এগিয়ে চলেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ১৫.৪ কোটি শিশু/কিশোর আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের সম্পূরক গ্রহণ করেছে।
ডিজিটাল সরঞ্জামগুলি রিয়েল-টাইম অ্যানিমিয়া পর্যবেক্ষণ ও সনাক্ত করে এবং এই সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে।
এএমবি কর্মসূচি, পোষণ অভিযান এবং বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কর্মসূচি সমন্বিত হয়েছে।

ভূমিকা
ভারতের বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কিশোর-কিশোরী বসবাস করে। এখানে রক্তাল্পতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে মহিলা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য। রক্তাল্পতা মূলত আয়রনের ঘাটতির ফলে হয়। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম হওয়ার রক্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অক্সিজেন বহন ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া, ফোলেট, ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতি রক্তাল্পতার অন্যান্য কারণ। এরফলে, মাতৃত্বকালে যত্নের অভাব অল্প বয়সে গর্ভাবস্থা এবং যথাযথ পরিমাণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ না করায় অন্যতম চ্যালেঞ্জর সৃষ্টি হয়।

রক্তাল্পতা প্রতিরোধ এবং এর মোকাবিলায় ভারত সরকার গত দুই দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ১৯৯৮-৯৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য গণনার সময়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিলক্ষিত হয়, যা রক্তাল্পতা মুক্ত ভারত গঠনের মতো যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণের পথ প্রশস্ত করে। বর্তমানে এএমবি-র মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের পরিপূরক এবং কৃমিনাশক দেওয়া হয়।

কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টি এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

লক্ষণগুলি কি কি?
রক্তাল্পতা দেখা দিলে ক্লান্তি, মাধাঘোরা, শ্বাস কষ্ট, ঠাণ্ডা হাত-পা এবং মাথা ব্যথার মতো লক্ষণগুলি দেখা যায়।

এটি সাধারণরত কাদের উপর প্রভাব ফেলে?
রক্তাল্পতা ৫ বছরের কম বয়সী শিশু বিশেষ করে দু বছরের কম বয়সী শিশু, কিশোরী, মহিলা এবং গর্ভবতী প্রসবোত্তর মহিলাদের মধ্যে বিশেষ করে প্রভাব ফেলে।

এর প্রভাব কী?
আয়রনের অভাবজনীত রক্তাল্পতায় শিশুদের সামগ্রিক বিকাশ ব্যহত হয়। প্রাপ্ত বয়স্কদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। গর্ভাবস্থায় আয়রনের অভাবে রক্তাল্পতা হলে পোষবকালীন সমস্যা, সময়ের আগে শিশুর জন্ম এবং কম ওজনের শিশুর জন্ম হতে পারে।

কিভাবে এটি প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা করা যেতে পারে?
রক্তাল্পতার চিকিৎসা ও তার প্রতিরোধ বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে। খাদ্য তালিকায় পরিবর্তনের মাধ্যমে যেমন, আয়রন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, সুষম খাদ্য তালিকা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীর পরামর্শ অনুযায়ী পরিপূরক গ্রহণ করে এই সমস্যা মোকাবিলা করা যায়।

বিশ্বব্যাপী রক্তাল্পতার পরিস্থিতি:
সমগ্র বিশ্বে ১৫-৪৯ বছর বয়সী প্রায় ৫০ কোটি মহিলা এবং ৫ বছরের সময় বয়সী ২৬ কোটি ৯০ লক্ষ শিশু রক্তাল্পতায় আক্রান্ত। ৩৭ শতাংশ গর্ভবতী মহিলা ২০১৯ সালে অক্রান্ত ছিলেন।

ভারতে রক্তাল্পতার পরিস্থিতি
জাতীয় স্বাস্থ্য সর্বেক্ষণ ২০১৯-২১ অনুযায়ী ভারতে ১৫-৪৯ বছর বয়সী গর্ভবতী মহিলাদের ৫২.২ শতাংশ রক্তাল্পতায় আক্রান্ত। শিশুদের মধ্যে এই হার ৬৭.১ শতাংশ।

রক্তাল্পতা নির্মূলের জন্য ভারত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জনগণ রক্তাল্পতায় আক্রান্ত একথা স্বীকার করে নিয়েও ভারত সরকার দেশ থেকে এই রোগ নির্মূল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১৮ সালে ৬x৬x৬ কৌশলের সাহায্যে রক্তাল্পতা সমস্যা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে রক্তাল্পতার প্রকপ ও তীব্রতা কমাতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আয়র ফলিক অ্যাসিডের পরিপূরক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি দুই সপ্তাহে ১টি আইএফএ সিরাপ দেওয়া হয়। ৫-১০ বছর বয়সীদের দেওয়া হয় সপ্তাহে ১টি গোলাপী ট্যাবলেট। কিশোর-কিশোরীদের (১০-১৯ বছর) এবং গর্ভবতী নন ও স্তন্যদান করেন না এমন ২০-৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের ১টি নীল লাল আইএফএ ট্যাবলেট দেওয়া হয়। গর্ভধারণের আগে এবং প্রথম ত্রৈমাসিকে মহিলাদের প্রতিদিন ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃমিনাশক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক জাতীয় কৃমিনাশক দিবস কর্মসূচি পালন করে। এর আওতায় প্রতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারি এবং ১০ আগস্ট, ১-১৯ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দ্বিবার্ষিক কৃমিনাশক ওধুধ দেওয়া হয়। গর্ভবতী মহিলাদের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কৃমিনাশক ওষুধ প্রদান করা হয়।

উপসংহার

রক্তাল্পতা দূরীকরণ ভারতের অন্যতম অঙ্গীকার। রক্তাল্পতা মুক্ত ভারত গড়তে সরকার বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। লক্ষ লক্ষ মহিলা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দেওয়া হয় আয়র ও ফলিক অ্যাসিডের সম্পূরক, কৃমিনাশক। এছাড়া সচেতনতা প্রচারেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সরকার মহিলা ও ছোট শিশুদের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকারক দিয়ে রক্তাল্পতা মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে কাজ করে চলেছে।