ওয়েব ডেস্ক; ২৯ জুলাই : ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রক, ন্যাশনাল সেন্টার ফর কোস্টাল রিসার্চ- এনসিসিআর-এর মাধ্যমে ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের নির্বাচিত স্থানে মেসোপ্লাস্টিক, ম্যাক্রোপ্লাস্টিক এবং সামুদ্রিক বর্জ্যের ওপর নজরদারি চালানো হয়। এইসব স্থানগুলির মধ্যে ছিল থুথুকুডি এবং মান্নার উপসাগর। মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণায় দেখা গেছে সিন্থেটিক তন্তু হলো মূল মাইক্রোপ্লাস্টিক। অন্যদিকে, নদী থেকে ভেসে আসা বর্জ্য এবং পরিত্যক্ত, হারিয়ে যাওয়া বা ফেলে দেওয়া মাছ ধরার সরঞ্জাম হলো মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের প্রধান উৎস।

উপকূলীয় পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ম্যাক্রোপ্লাস্টিকের প্রাচুর্য সংক্রান্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এনসিসিআর একটি ক্লিন কোস্ট ইনডেক্স তৈরি করেছে। সিসিআই মূল্যায়নে থুথুকুডি উপকূল এবং মান্নার উপসাগরকে ‘মাঝারিভাবে পরিচ্ছন্ন’ অঞ্চল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। মান্নার উপসাগর এবং থুথুকুডি উপকূল বরাবর প্রতি ৫০ গ্রাম পলিতে ২৮ থেকে ৬০টি কণার মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, এই অঞ্চলে কোনো বড় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ হটস্পট চিহ্নিত করা যায়নি।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর কোস্টাল রিসার্চ ভারতের উপকূলজুড়ে সামুদ্রিক বর্জ্য ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন পরিচালনা করে এবং নীতি প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও অংশীজনদের প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করে থাকে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বেশ কিছু নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে কম উপযোগিতা এবং উচ্চ হারে আবর্জনা তৈরির সম্ভাবনাযুক্ত, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) বিধি ২০২২-ও বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের জন্য বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা নির্দেশিকা চালু করা হয়। এই নির্দেশিকাগুলিতে শক্ত প্লাস্টিক প্যাকেজিং সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার, এবং পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক উপাদানের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং প্লাস্টিকের ক্ষতিকারক প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে, এই ব্যবস্থার অধীনে প্রায় ২৩২ লক্ষ টন প্লাস্টিক প্যাকেজিং বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।

জাতীয় সামুদ্রিক বর্জ্য বিষয়ক খসড়া নীতি প্রস্তুত করা হয়েছে। পরামর্শের জন্য তা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

লোকসভায় এক লিখিত উত্তরে ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং এই তথ্য জানিয়েছেন।