ওয়েব ডেস্ক ; ২৬ সেপ্টেম্বর: ভারতীয় তথ্য পরিষেবা (IIS)-এর বরিষ্ঠ আধিকারিক সন্তোষ আজমেরা কলকাতায় প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-এর অতিরিক্ত মহানির্দেশক এবং সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এর আগে আজমেরা ভারত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের যুগ্মসচিব, ভারতের নির্বাচন কমিশনের অধিকর্তা, ন্যাশনাল ফিল্ম হেরিটেজ মিশন (NFHM)-এর অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি এবং প্রচার ও প্রচারাভিযান সংক্রান্ত কাজের জন্য মহারাষ্ট্র ও গোয়া অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের পদ। তিনি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী প্রকাশ জাভড়েকর এবং কর্নেল রাজ্যবর্ধন রাঠোরের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
সরকারি যোগাযোগ, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ, জনসংযোগ এবং চলচ্চিত্র সংক্রান্ত কাজে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। NFHM-এর অধীনে দেশের চলচ্চিত্র ঐতিহ্য সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ডিজিটাইজেশন এবং পুনরুদ্ধারের জন্য গৃহীত মিশন মোড প্রকল্পেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। কলকাতায় PIB এবং SRFTI, দুই প্রতিষ্ঠানেই তাঁর এই অভিজ্ঞতা কাজে আসবে।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য PIB-এর সদর দফতর কলকাতায়। সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের নীতি, কর্মসূচি এবং সিদ্ধান্ত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে PIB গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। SRFTI দেশের অন্যতম প্রধান চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ডিমড-টু-বি ইউনিভার্সিটির মর্যাদা পেয়েছে।
২০০৮ ব্যাচের আইআইএস (IIS) আধিকারিক আজমেরা ২০২৪ সালের ভারতীয় সংসদীয় নির্বাচন পরিচালনায় এবং ভোটারদের সম্পৃক্ত করার কার্যক্রমে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পার্লামেন্টারি স্টাডিজ’ থেকে ‘সিটিজেন এনগেজমেন্ট’ (নাগরিক সম্পৃক্ততা) বিভাগে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইলেক্টোরাল অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ অর্জন করেছেন।
এর আগে আজমেরা NFHM-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটি ভারত সরকারের ভারতের চলচ্চিত্র ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং ডিজিটাইজেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। ভারতের চলচ্চিত্র ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প ছিল। ডিজিটাল জনসংযোগের ক্ষেত্রেও আজমেরার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি Social Media Communication Hub এবং Talkathon-এর পরিকল্পনা ও প্রতিষ্ঠা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্বারা সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার জন্য এই মাধ্যম তৈরি করা হয়েছিল। এই কাজের জন্য তিনি ২০১৪ সালে Web Ratna Platinum Award অর্জন করেন।
লেখক হিসেবেও আজমেরার পরিচিতি রয়েছে। প্রশাসন, নীতি-নৈতিকতা, জন প্রশাসন, নেতৃত্ব এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি ১০টি বই লিখেছেন। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে Electing the First Citizen: An Illustrated Chronicle of India’s Presidential Elections। ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত এই বইটির প্রথম কপি ভারতের মাননীয় রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আর একটি বই Ethics, Integrity and Aptitude, প্রকাশ করেছে McGraw Hill Education।
আজমেরা আইআইএম আহমেদাবাদ, আইআইএম ব্যাঙ্গালোর এবং আইআইটি মুম্বাই থেকে আন্তর্জাতিক নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও অনুশীলন বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং বিভিন্ন সার্টিফিকেশন কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফিল্ম আর্কাইভস থেকে একটি চলচ্চিত্র সংরক্ষণ কর্মসূচিও সম্পন্ন করেছেন।
