ওয়েব ডেস্ক; ৫ এপ্রিল :
ভূমিকা
ভারত সরকারের এক সহযোগিতামূলক উদ্যোগ হিসাবে এবছর ২ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সাধনা’ (Strengthening Adaptive Development and Humane Aptitude for National Advancement) সপ্তাহ ২০২৬ পালিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হল, নাগরিক-কেন্দ্রিক শাসনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করা। পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগ, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন এবং কর্মযোগী ভারত-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এক মঞ্চে নিয়ে এসেছে। “হাম বনে কর্মযোগী” স্লোগান সম্বলিত এই উদ্যোগটি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশনের প্রতিষ্ঠা দিবস এবং মিশন কর্মযোগীর পাঁচ বছর পূর্তিকেও উদযাপন করে।

মিশন কর্মযোগী: জন-কেন্দ্রিক শাসনের জন্য সক্ষমতা তৈরি

মিশন কর্মযোগী হল, সিভিল সার্ভিস সক্ষমতা বৃদ্ধির জাতীয় কর্মসূচি। এটি একটি কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প যা আমলাতন্ত্রকে প্রথাগত ‘নিয়ম-ভিত্তিক’ (rule-based) ব্যবস্থার পরিবর্তে ‘ভূমিকা-ভিত্তিক’ (role-based) এবং কর্মদক্ষতা-চালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের সঠিক মানসিকতা ও দক্ষতার মাধ্যমে জনগণের কাছে উন্নত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। এই মিশনটি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন (প্রতিষ্ঠা ২০২১) এবং iGOT ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী কর্মযোগী ভারত (প্রতিষ্ঠা ২০২২) দ্বারা সমর্থিত।

মিশন কর্মযোগী: বৃহত্তর পরিসরে সক্ষমতা বৃদ্ধি

গত পাঁচ বছরে মিশন কর্মযোগী সিভিল সার্ভিসে আমূল পরিবর্তন এনেছে। বস্তুত, ১.৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী iGOT প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং ৪,৬০০টিরও বেশি কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিবর্তনটি কেবল প্রশাসনিক জ্ঞান নয়, বরং সমস্যা সমাধান, সহযোগিতা এবং সহমর্মিতার মতো আচরণগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেয়। সাধনা সপ্তাহ এই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে যাতে সরকারি কর্মচারীদের উন্নত দক্ষতা সরাসরি জনসেবায় প্রতিফলিত হয় এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্ন পূরণ হয়।

জাতীয় স্তরের একটি আন্দোলন

সাধনা সপ্তাহ ১০০টিরও বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ২৫০টিরও বেশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন জাতীয় কাঠামোর অধীনে এনেছে। এটি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রটিকে একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করেছে, যেখানে সকল স্তরের কর্মকর্তারা নিজেদের সেরা অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা বিনিময় করতে পারেন।

সাধনা সপ্তাহের তিনটি থিম বা বিষয়

সাধনা সপ্তাহ তিনটি প্রধান সূত্রের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে:

  • প্রযুক্তি (৩-৪ এপ্রিল): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং তথ্য-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে।
  • ঐতিহ্য (৫-৬ এপ্রিল): ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা, নীতিশাস্ত্র এবং ভারতের চিরাচরিত প্রশাসনিক মডেলগুলিকে বর্তমান শাসনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
  • দৃশ্যমান ফলাফল (৭-৮ এপ্রিল): সরকারি প্রকল্পের প্রকৃত ফলাফল পরিমাপ করা এবং নীতিগুলি যাতে সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সাধনা সপ্তাহের প্রত্যাশিত ফলাফল

সপ্তাহ শেষে প্রতিটি মন্ত্রক ও বিভাগ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য দুটি প্রযুক্তিগত, দুটি ঐতিহ্যগত এবং তিনটি পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনাগুলি পরিকাঠামো, কৃষি, অর্থ ও প্রযুক্তির মতো ১০টি বিশেষ ক্ষেত্রে বিভক্ত করা হবে।

চালু হতে যাওয়া প্রধান উদ্যোগসমূহ

সাধনা সপ্তাহে বেশ কিছু নতুন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে:
কর্মযোগী ক্ষমতা কানেক্ট: কর্মীদের ডিজিটাল সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি।

রাষ্ট্রীয় জনসেবা কর্মসূচি: তৃণমূল স্তরে ‘সেবা ভাব’ প্রচারের জন্য তরুণ স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ।

উন্নতি (UNNATI) পোর্টাল: প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
iGOT লার্নিং অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক: কাজের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের প্রভাব মূল্যায়নের একটি ব্যবস্থা।

কর্মযোগী গান: সেবা ও নিরন্তর শেখার মানসিকতাকে উৎসাহিত করতে এই গানটি প্রশিক্ষণের অংশ হবে।

এআই-চালিত অমৃত জ্ঞান কোষ: শাসনের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত (case studies) বিশ্লেষণের জন্য এআই সরঞ্জামের ব্যবহার।

নিরন্তর সক্ষমতা বিকাশের পথ
iGOT প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন কোর্স, দলগত আলোচনা (সামগ্রিক চর্চা) এবং কর্মশালার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি সরকারি ব্যবস্থায় নিরন্তর শেখার সংস্কৃতিকে জোরদার করে।

উপসংহার

সাধনা সপ্তাহ ২০২৬ ভারতের সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমলাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আধুনিক মানসিকতায় সজ্জিত করতে এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।