ওয়েব ডেস্ক; ৯ ডিসেম্বর : স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগী ইউনেসকোর আন্তঃসরকার কমিটির ২০তম অধিবেশন শুরু হল ভারতের নতুন দিল্লিতে। লালকেল্লায় এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা প্রমুখ। ছিলেন ইউনেসকোর মহানির্দেশক ডঃ খালেদ এল-এনানি এবং ইউনেসকোয় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বিশাল বি. শর্মা।
সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা পড়ে শোনান। ইউনেসকোর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি এই ধরণের কাজে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করায় ভারত প্রস্তুত বলে আবারও জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ইউনেসকোর তালিকায় ভারতের ঐতিহ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি এদেশের কাছে অন্ত্যন্ত গর্বের। একইসঙ্গে আমাদের ভাষাগত বৈচিত্র্য, সমৃদ্ধ সাহিত্য, গ্রাম- শহর- নগরে বহমান সাংস্কৃতিক ধারা আমাদের গর্বিত করে।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেন, ঐতিহ্যের বিষয়টি কেবলমাত্র স্মারক বা লিপির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভাষা, সঙ্গীত, উৎসব, রীতিনীতি, কারুশিল্প, মৌখিক আখ্যান- সবকিছুর মধ্যেই জড়িয়ে রয়েছে ভারতের পরম্পরা। এদেশে সভ্যতার মূল বার্তা হল বসুধৈব কুটুম্বকম- অর্থাৎ সারা বিশ্ব একই পরিবার। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত ইউনেসকোর স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় ভারতের ১৫টি সাংস্কৃতিক রীতি অন্তর্ভুক্ত। সামগ্রিকভাবে ইউনেসকোর এই তালিকায় ১৫০টি দেশের ৭৮০টি সাংস্কৃতিক রীতি জায়গা পেয়েছে। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভারত সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। এই অধিবেশন সারা বিশ্বের সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দিশা নির্দেশ দেবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ভারতের ধ্রুপদী এবং লোক ঐতিহ্যের বিভিন্ন ঝলক তুলে ধরেন শিল্পীরা।
