ওয়েব ডেস্ক; ৯ সেপ্টেম্বর : বিশ্বের পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, ভারত তার মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল। ৫৬-তম ইইপিসি ইন্ডিয়া ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডস সমারোহে আজ তিনি বলেছেন, ভারত যে কোনও বাধা পেরিয়ে যাওয়ার শক্তি ধরে। বাণিজ্য মহলের উচিত, স্বদেশী পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তেমনটা হলে দেশের বিকাশ ত্বরাণ্বিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও মজবুত হবে। বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা হল যে, যে কোনও দেশ ভারতের আমদানি-রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি করে বাণিজ্যের গতি ব্যাহত করতে পারে। সেজন্যই আত্মনির্ভর ভারত-এর ধারণাকে আরও জোরদার করে তোলা দরকার। এক্ষেত্রে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।

১৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার এবং উদ্ভাবনার ক্ষেত্রে যে ডাক দিয়েছেন তার প্রতি একনিষ্ঠ থেকে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং বাণিজ্য মহল মেক ইন ইন্ডিয়া পণ্যের প্রসারে উদ্যোগী হবেন, এমনটাই কাম্য- একথা বলেছেন বাণিজ্য মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ভারতের শক্তি নিহিত রয়েছে ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে। ভারত নিজের বলে এতটাই বলীয়ান যে অন্য কোনও পক্ষের সামনে নত হওয়ার প্রশ্নটিই আসে না।

ইইপিসি-র কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ১৯৫৫ সালে রপ্তানির মূল্যমান ছিল ১০ মিলিয়ন ডলার- যা এখন দাঁড়িয়েছে ১১৬ বিলিয়ন ডলারে। ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্র ক্রমে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে তিনি প্রত্যয়ী। রপ্তানির প্রসারে পরিবেশ বান্ধব এবং ত্রুটিহীন পণ্য উৎপাদনে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করিয়ে দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সারা বিশ্বই এখন ভারতকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার বলে মনে করে। এই মর্যাদা ধরে রাখতে হবে। পরিবেশ বান্ধব বিকাশের পথে বিশ্বাসী ভারত প্যারিসে কপ-২১-এ গৃহীত লক্ষ্যমাত্রার প্রতি দায়বদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত বিশ্বের ভঙ্গুরতম ৫টি অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার লজ্জাজনক তকমা মুক্ত হয়ে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশশীল দেশ হয়ে উঠেছে বলে শ্রী পীযূষ গোয়েল উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি বিগত ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। জিএসটি সংস্কার অভ্যন্তরীণ চাহিদা আরও বাড়িয়ে তোলায় সহায়ক হবে বলে তাঁর মন্তব্য। উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়াতে সরকারের দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিএসটি-র হার কমানোর সুফল যাতে প্রান্তিকতম নাগরিকের কাছেও পৌঁছে যায় তা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে রপ্তানির গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেন।