ওয়েব ডেস্ক; ৫ সেপ্টেম্বর : জল জীবন মিশন (জেজেএম) আরও একটি মাইলফলক অর্জন করেছে। ১৩ কোটি গ্রামীণ পরিবারকে নলবাহিত জল সংযোগ দেওয়া হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে সঠিক মাত্রায় কাজ করার মাধ্যমে এই মিশন মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেছে। একই সঙ্গে, গ্রামে নলবাহিত জল সংযোগ দেওয়ার মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে অগাস্ট মাসে যখন এই মিশন চালু হয়, তখন এই সংখ্যা ছিল ৩.২৩ কোটি। মাত্র চার বছরে এই সংখ্যা ১৩ কোটিতে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৯ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জল জীবন মিশনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোয়া, তেলেঙ্গানা, হরিয়ানা, গুজরাট, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, পুদুচেরী, দমন ও দিউ এবং দাদরা ও নগর হাভেলী এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ১০০ শতাংশ এর আওতায় এসেছে। বিহারে এই হার ৯৬.৩৯ শতাংশ, এরপরই রয়েছে মিজোরাম, সেখানে এই হার ৯২.১২ শতাংশ।

রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির অংশীদারিত্বে এই মিশন বাস্তবায়িত হয়েছে। উভয়ের যৌথ প্রয়াসে তৃণমূল স্তরে সাফল্য এসেছে। ২০২৩ – এর পয়লা জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮৭ হাজার ৫০০টি নলবাহিত জল সংযোগ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ প্রয়াসের ফলস্বরূপ দেশে বিদ্যালয়ে ৯.১৫ লক্ষ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে ৯.৫২ লক্ষ নলবাহিত জল সংযোগ দেওয়া হয়েছে। যখন এই মিশনের সূচনা হয়, তখন উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলাগুলির বাড়িতে বাড়িতে নলবাহিত জলসংযোগের সংখ্যা ছিল ২১.৪১ লক্ষ, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১.৮১ কোটি।

‘হর ঘর জল’ – এর আওতায় গ্রামের মানুষের মধ্যে সামাজিক ও আর্থিক লাভের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। আগে বাড়ির মহিলা, যুবতী এবং বয়স্ক মহিলারা বাড়ি থেকে বহু দূরে প্রতিদিন জল আনতে যেতেন। এতে তাঁদের সময়ও নষ্ট হ’ত। এর প্রভাব পড়তো আয়, নতুন কৌশল শেখা এবং শিশুদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে। কিন্তু, এখন এর পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ফলে সুদূরপ্রসারী ফল মিলেছে। দেশে ৫.২৭ লক্ষেরও বেশি গ্রামীণ ‘পানি সমিতি’ তৈরি হয়েছে।

জল জীবন মিশনের মাধ্যমে বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ সুনিশ্চিত হয়েছে। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিসওয়াস, সবকা প্রয়াস’ – এই মন্ত্রে জল জীবন মিশন সুস্থায়ী উন্নয়নের ৬টি লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশেষ সাহায্য করেছে। এই মিশনের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার পরিবার, বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং অন্য গণ-প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: পি আই বি