ওয়েব ডেস্ক ; ১০ মার্চ : ২০২৫-এ আমরা যখন এক নতুন বছরের পথ চলা শুরু করছি, একভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। এত ধরনের খাবারের ট্রেন্ডের মাঝে মিলেটস আলাদা করে নজর কাড়ছে। প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত এই শস্যগুলো প্রোটিন, ফাইবার, আর ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিতে ভরপুর। রোজকার খাদ্যতালিকায় মিলেটস যোগ করলে স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে।
মিলেটস শস্যের সব গুণ ধরে রাখে, যেখানে পরিষ্কার করা শস্যের (refined grains) পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রচুর ফাইবার থাকে যার ফলে হজম ভালো হয়, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, আর সারা দিন ধরে ধীরে ধীরে এনার্জি দেয়। আরও একটা বড় সুবিধা হলো, মিলেটসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম—তাই রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়া-কমার ঝুঁকিও নেই।
রোজকার খাবারে মিলেটস যোগ করা খুবই সহজ আর বেশ সুস্বাদু ও উপকারী। দিনটা শুরু করতে পারেন মিলেট মুসলি, গ্রানোলা বা ওটমিল দিয়ে—যা স্বাস্থ্যকর আর ঝটপট বানানো যায়। মিলেটস দিয়ে সালাদ, স্যুপ বা ট্র্যাডিশনাল রেসিপিতে চাল বা গমের বদলে দারুণ সব পদ বানানো যায়। এমনকি বেক করা খাবারেও মিলেটস ব্যবহার করা যায়, যা প্রসেসড উপকরণের থেকে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
মিলেটসকে রোজকার খাবারে যোগ করলে শুধু পুষ্টির মানই বাড়বে না, পরিবেশের জন্যও ভালো হবে। এই শস্য চাষে কম জল লাগে এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় সহজেই বেড়ে ওঠে, তাই এটি প্রকৃতিবান্ধব একটি বিকল্প। এখন অনেক ব্র্যান্ড ময়দা, শস্য কিংবা আগে থেকেই মিশ্রিত পণ্যের মতো বিভিন্ন রূপে মিলেটস দিচ্ছে—যাতে রোজকার রান্নায় ব্যবহার করা সহজ হয় এবং সময়ও বাঁচে।
মিলেট-ভিত্তিক পণ্য যেমন মুসলি, গ্রানোলা বা ওটমিল রান্নাঘরে মজুত রাখলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা সম্ভব। এই ছোট্ট বদল খাওয়ার অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন আনতে পারে, যাতে সহজেই আনন্দের সঙ্গে সুস্থ থাকা যায়। ২০২৫-এ নিজেদের পুষ্টি সংক্রান্ত চাহিদা মেটানোর জন্য মিলেটস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
লেখক: মিস সাগরিকা গার্গ, পুষ্টিবিদ, সোলফুল, টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস
