ডিজিটাল, ৩ ফেব্রুয়ারি, কলকাতা: করোনার আবহ যখন প্রায় শেষ হয়ে আসছে, মানুষের মন থেকে ভয়াল মৃত্যুর ছায়া যখন ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়, জানুয়ারি মাসের শেষ দিনে হয়ে গেল “প্রগতি বাংলার” ১৬ তম বার্ষিক অনুষ্ঠান। এখানে আরো একবার দেখা গেল, পেশা যার যেমনি হোক না কেন, মন যদি মানবসেবায় থাকে তাহলে তিনি অবশ্যই এগিয়ে আসবেন সমাজকল্যাণে।

প্রগতি বাংলার অন্যতম কর্ণধার ডাঃ অরিজিৎ কুমার নিয়োগী এই কাজটিই করে যাচ্ছেন দীর্ঘ সময় ধরে। যাদের মঞ্চে স্থান হয় না, যারা মুলস্রোতের বাইরে থেকে জীবনযাপনকে ভবিতব্য ধরে নিয়ে চলতে বাধ্য হন, তাদের জন্য ধারাবাহিক কাজ করে চলেছে “প্রগতি বাংলা”, জানালে ডক্টর নিয়োগী।

শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার যোগেশ মাইম মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল “প্রগতি বাংলা”র ১৬ তম বার্ষিক অনুষ্ঠান। অতিথি ছিলেন সমাজকর্মী জর্জ সৌরভ চন্দ্র, গায়িকা পৌষালী, ডাঃ এস পাহাড়ী ও এডভোকেট প্রতীক মজুমদার সহ বহু গুণী মানুষ। আয়োজকদের তরফে অধ্যাপক ড: অরিজিৎ কুমার নিয়োগী জানিয়েছেন, সারা বছর ধরে তাঁরা আর্থিক, সামাজিক ও শরীরীক বিভিন্নতার নানা স্তরের মানুষদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সামিল করার চেষ্টা করেন। কেউ যেন সমাজ বিচ্ছিন্ন, বিপন্নবোধের শিকার না হয় তার জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালায় প্রগতি বাংলা।

এদিন সন্ধ্যায় সাংকৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের এক ঝাঁক তরুণ তরুণী। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল রূপান্তর কর্মীদের ফ্যাশন শো এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ও দৃষ্টিহীনদের ফ্যাশন শো। বাঙালিযানার সাবেক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে মহিলারা সকলে শাড়ি এবং পুরুষরা পড়েছিলেন ধুতি। সমগ্র ফ্যাশন শো এর কোরিওগ্রাফি করেছেন অর্চিত রায়। উপদেষ্টা ছিলেন ডিজাইনার অধ্যাপক সৌমেন ঘোষ, জন সেনগুপ্ত ও শ্যামল মল্লিক। এই বার্ষিক অনুষ্ঠানে বঙ্গ গৌরব সম্মাননা ২০২১ এ- ভূষিত হন ৬৫ জন নানা ক্ষেত্রের কৃতী বাঙালি।

এই বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকতে এদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমতি রঞ্জিতা সিনহা, ডাঃ অরুণজ্যোতি ভিক্কু, প্রফেসার সুজয় বিশ্বাস, পন্ডিত সঞ্জয় অধিকারী, পন্ডিত শুভঙ্কর ব্যানার্জি, সঙ্গীতা সিনহা, অরিজিৎ দত্ত, ডিজাইনার প্রফেসার সৌমেন ঘোষ, জন সেনগুপ্ত ও শ্যামল মল্লিক প্রমুখ
অনুষ্ঠানিক ভাবে প্রগতি বাংলার ২০২১ সালের ৩টি ক্যালেন্ডার উৎঘাটন করা হয়।
