
ওয়েবডেস্ক, ২১ জুলাই,২০২০, কলকাতাঃ
দেবাঞ্জন দাস: গত জুন মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভার্চুয়াল প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের কর্মীদের আগামী ২০২১ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। লকডাউন এবং করোনা পরিস্থিতিতে আজকের একুশে জুলাই ধর্মতলা শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠানে সেই মেজাজ না থাকলেও প্রত্যেকটি বুথে বুথে মাল্যদান এবং ভার্চুয়াল মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় রীতিমতো স্পষ্ট হয়ে গেল ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্য। গত লোকসভা নির্বাচনে ১৮ টি আসন বিজেপি পাওয়ার ফলে যাতে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে না যায় তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আজ কর্মীদের জোরদার লড়াইয়ের জন্য নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন ৩৪ বছরের সিপিএম রাজত্বকে মানুষ যেভাবে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে, ২০২১ এ বিজেপি সরকার যাতে পশ্চিমবঙ্গের মাথা তুলতে না দাড়াতে পারে সেই ব্যাপারে তৃণমূল নেত্রী নিশ্চিত করতে চান। তার কথায়, বিজেপি চক্রান্ত করে বাংলার সরকারকে ভাঙছে। রাজ্যপালকে দিল্লিতে আহ্বান করার ঘটনাকে তৃণমূল নেতৃত্ব হালকা ভাবে দেখছে না। বাংলাকে শাসন করবে বাংলাই। কোন গুজরাট বাংলাকে শাসন করবে না একথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। যেই আন্দোলন করে আজ নিজের জায়গা পেয়েছেন, সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে ছোট ছোট ছেলেরা, মানুষরা যখন আন্দোলন করছেন সে আন্দোলনকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। নির্বাচনকে একটি ডার্টি গেম এ পরিণত করেছে বিজেপি। টাকা দিয়ে চলছে সরকার ভাঙ্গানোর কাজ।
তিনি আশঙ্কা করছেন যে তার আজকের এই ভার্চুয়াল সভায় যে কথাগুলো বললেন তার ফলে আগামীকাল থেকে তার ওপর লাঞ্ছনা-বঞ্চনা-অত্যাচার বেড়ে যাবে।
তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সেই ভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। সমস্ত বুথ লেভেল কর্মীদের নিজের সম্পদ বলে সম্মান জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তৃণমূল সুপ্রিমো যুব শক্তিকে বিশেষ ভাবে এগিয়ে আসতে বলেন। ২০২১ এ বাংলা ভারতকে যে পথ দেখাবে সেই ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মসংস্থানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সারা ভারতেই যখন ৪৫% বেকারত্ব বেড়েছে তখন বাংলায় ৪০% কমেছে।
যে সমস্ত মানুষ বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস দলে ভুল করে চলে গিয়েছেন তাদেরকে পুনরায় তৃণমূলের ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কয়েক মাস আগে সারাদেশ এনআরসি, এন পি আর নিয়ে উত্তাল হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড চলছে বলে এই সমস্ত জিনিস আমরা ভুলে যাবো না।
আম্পান নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি বলেন, হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দিলেও তার থেকে অনেক বেশি খরচ আমাদের হয়েছে । ইতিমধ্যেই সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা আমরা চেয়েছি।
“উন্নয়ন যদি করতে চান তাহলে আমরা সঙ্গে আছি”— এ কথা বারবার উঠে আসে তার বক্তৃতায়।
আজকের ২১ শে জুলাই শহীদ স্মরণ এর মধ্যে দিয়ে আগামী বিধানসভার দামামা বাজালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সে কথাই বলছে রাজনৈতিক মহল। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকালে আগামী বিধানসভার কার পাল্লা ভারী সেটা সময়ের অপেক্ষা। তবে, যুব শক্তিকে নিয়ে যে নতুনভাবে নিজেদের সংগঠন এবং রাজনীতির লড়াই তৈরি করতে চান সে কথা স্পষ্ট তার বক্তব্যে ।
