ডিজিটাল ডেস্ক, ১৬ নভেম্বর, কলকাতা: অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন; এই চিকিৎসার নাম শুনলেই যে কোন মানুষ তথা রোগীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল চিকিৎসা ঠিকঠাকভাবে হবে কিনা কিংবা চিকিৎসার পর রোগী সুস্থ হয়ে যাবে কিনা।
সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট যা ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতাল নামে পরিচিত। অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন এর ক্ষেত্রে তারা এক নজির স্থাপন করলো। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয় তাদের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের বিভাগটি । বর্তমানে ৭৫ জন রোগীর দেহে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করে এক নতুন মাইলস্টোন স্পর্শ করলো।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানানো হয় হাসপাতালের তরফ থেকে।
মূলত যে সমস্ত রোগী হজকিনস্ লিম্ফোমা , মাইলোমা বা নন-হজকিনস্ লিম্ফোমার মতন ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং উচ্চমাত্রায় যাদের কেমোথেরাপি চিকিৎসা নিতে হয় তাদের ক্ষেত্রে এই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হয়।
হাসপাতালে তরফ থেকে জানানো হয়েছে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন তিন মাসের মধ্যে ১১ জন রোগীর দেহে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বিভাগের BMT অধিকর্তা ডাক্তার পার্থ প্রতিম গুপ্ত বলেন অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন এখন একটি বিশ্বব্যাপী চিকিৎসার মাধ্যম যার দ্বারা বিভিন্ন ম্যালাইন্যান্ট এবং ম্যালিগন্যান্ট হেমাটলজি অবস্থার এবং রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। বিএমটি দুই প্রকারের প্রথমত অটোলোগাস বিএমটি যেখানে রোগীর নিজস্ব স্টেম সেল অস্থি মজ্জার কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারের জন্য সংযোজিত হয়। দ্বিতীয়তঃ অ্যালোজেনিক বিএমটি যেখানে স্টেম সেল এইচ এল এ সাদৃশ্য সুস্থ দাতার কাছ থেকে পাওয়া যায় এবং তার রোগীর দেহে সংযোজিত হয়।
উপস্থিত হাসপাতালে সম্পাদক অঞ্জন গুপ্ত তার কথায় বলেন আমাদের হাসপাতাল পূর্ব ভারতের প্রথম কয়েকটি ক্যান্সার কেন্দ্রের মধ্যে একটি যা প্রতিবেশী রাজ্য এবং দেশগুলিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের সুবিধা প্রদান করে আসছে। গুজরাট ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ইন্দো-আমেরিকান ক্যান্সার অ্যাসোসিয়েশন যারা আমাদের ডাক্তারদের প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং বিভাগটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সর্বপ্রকার সাহায্য করেছেন। বর্তমানে চারটি ডিলাক্স কেবিন রয়েছে যেগুলি এই সমস্ত রোগীদের প্রয়োজন মতন সব রকমের সংক্রমণমুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে। এক ছাতার তলায় গরিব মানুষ খুবই স্বল্প খরচে সমস্ত রকম চিকিৎসা পাবেন এই হাসপাতালে।
ডাক্তার অর্ণব গুপ্ত বলেন সবচেয়ে আত্মতুষ্টির বিষয় এই যে ৭৫ জন রোগী যারা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করিয়েছেন তার সবাই এখন রোগমুক্ত হয়েছেন যারা প্রথম অবস্থায় কেমোথেরাপি চিকিৎসায় সুফল লাভ করেন নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ২১ বছর বয়সী শাহবাজ শেখ জানান হজকিন লিম্ফোমা রোগ নিয়ে তিনি যখন আসেন তখন তার ১৫ বছর বয়স এই ধরনের অসুখ সাধারণত কেমোথেরাপি চিকিৎসায় প্রায় নির্মূল হয়ে যেতে পারে কিন্তু তিন ধরনের কেমোথেরাপি চিকিৎসা হওয়া সত্ত্বেও তাকে রোগ মুক্ত করা সম্ভব হয়নি অবশেষে ২০১৮ সালে তার দেহে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং বর্তমানে সে সম্পূর্ন রোগ মুক্ত হয়ে সাধারণ জীবন যাপন করছেন।
একই রকম ভাবে ১৯ বছর বয়সী আগরতলার নিবাসী মধুপর্না ভট্টাচার্য তিনি একজন উদীয়মান চিত্রগ্রাহক ২০১৯ সালে হজকিনস্ লিম্ফোমা রোগে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা নেওয়ার সত্ত্বেও কোন সুরাহা হয়নি কিন্তু অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করে আজ মধুপর্না একজন আত্মনির্ভরশীল চলচ্চিত্র জগতের বিশেষ চিত্রগ্রাহক রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছে।
Breaking
City
Covid19
Current Issue
Health
Kolkata
Lifestyle
News
People
Public Interest
Westbengal
পশ্চিমবঙ্গ
অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনে নজির গড়লো সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট
