ডিজিটাল; ২৯ আগস্ট: গত ২৮ আগস্ট গান্ধীনগরে জাতীয় ফরেন্সিক বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এই উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুজরাট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অরবিন্দ কুমার, গুজরাটের আইন মন্ত্রী রাজেন্দ্র ত্রিবেদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ জে এম ব্যাস।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁর ভাষণে সমাবর্তনে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে বিশ্বের প্রথম ফরেন্সিক বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি লাভের পর তাঁরা সমাজের কাজে আত্মনিয়োগ করবেন। ৯১ জন বিদেশি ছাত্রছাত্রী সহ মোট ১,১৩২ জন শিক্ষার্থী ফরেন্সিক সায়েন্সের বিভিন্ন দিকের বিশেষজ্ঞ হিসেবে সমাজের কাজে যুক্ত হতে চলেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, যে লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফরেন্সিক বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তার লক্ষ্য পূরণে এই ছাত্রছাত্রীরা যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন সে বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একটি নতুন ক্যাম্পাস এবং তিনটি উৎকর্ষ কেন্দ্রেরও সূচনা হল। এই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহণযোগ্যতা যেভাবে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বসেরা হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শাহ বলেন, যে তিনটি উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে তা ছাত্রছাত্রীদের শক্তি যোগানো ছাড়াও দেশের বিচার ব্যবস্থাকেও জোরদার করে তুলবে। ডিএনএ উৎকর্ষ কেন্দ্রটি বিশ্বের অত্যাধুনিক ডিএনএ কেন্দ্র রূপে পরিগণিত হবে। এই উৎকর্ষ কেন্দ্র থেকে বিশেষভাবে লাভবান হবে অপরাধীদের বিচার ব্যবস্থা। সাইবার নিরাপত্তা, তদন্ত এবং ফরেন্সিক মনস্তত্ত্বের ক্ষেত্রেও এটি বিশেষভাবে কার্যকর প্রমাণিত হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভারতে গবেষণা ও উন্নয়নের পাশাপাশি এই তিনটি কেন্দ্র শিক্ষাদান, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শদানের ক্ষেত্রেও এক বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। আর এইভাবেই ফরেন্সিক সায়েন্সের গবেষণার ক্ষেত্রে ভারত হয়ে উঠবে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা ডিগ্রি লাভ করেছেন তাঁদের সামনে গবেষণার সুযোগও খুলে যাবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ফরেন্সিক সায়েন্সকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষভাবে জোর দিয়েছে। ফরেন্সিক পরিকাঠামো, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ, ফরেন্সিক প্রযুক্তি এবং ফরেন্সিক বিজ্ঞান – এই চারটি হল এ সম্পর্কিত গবেষণা ক্ষেত্রের মূল স্তম্ভ। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি রাজ্যে জাতীয় ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি করে ক্যাম্পাস গড়ে তোলার কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে আশাবাদী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি বলেন, ফরেন্সিক বিজ্ঞান সম্পর্কিত গবেষণাগার প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বেশ কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুটি ভ্রাম্যমান ফরেন্সিক বিজ্ঞান গবেষণাগারও স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই গবেষণাগারগুলি। ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি জেলাতেই এই ভ্রাম্যমান গবেষণাগার স্থাপন করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, থার্ড ডিগ্রি প্রয়োগের যুগ এটি নয়। অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হবে বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্য–প্রমাণ ও অপরাধের ভিত্তিতে।
জাতীয় ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র ফরেন্সিক বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞই তৈরি করে না, বরং অপরাধীদের বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সবক’টি ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণদানেরও প্রস্তুতি গড়ে তোলে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশ আধিকারিক, সরকারি কৌঁসুলি এবং বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয় মারফৎ। এ পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধীদের বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ২৮ হাজারেরও বেশি আধিকারিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় তদন্তের স্বার্থে ফরেন্সিক সুযোগ-সুবিধার প্রসার ঘটানো হবে। তাঁর মন্ত্রক এ বিষয়ে তৎপর হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।
