ডিজিটাল; ১০ ডিসেম্বর: জাতীয় ব্যাংকিং সেক্টর বেসরকারিকরনের প্রতিবাদে বহুদিন ধরেই বিভিন্ন ব্যাংক কর্মী সংগঠন গুলি বারবার প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে। এই প্রতিবাদের অন্যতম মুখ আইনবফ (AINBOF) এর সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক সঞ্জয় দাস। সেই সরকারি ব্যাংক বেসরকারীকরন নিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ১০ ডিসেম্বর সংগ্রামপুর- শিবহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন আদানি মাঠে ,ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এর তরফ থেকে এক গ্রাম সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় সম্পাদক তথা আইনবফ (AINBOF) এর সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক সঞ্জয় দাস ।এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট এর BDO বিসাখ ভট্টচার্য এবং পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় সরকার ,উপপ্রধান মামণি দাস,সংগঠনের উপদেষ্টা তরুণ সাহা,কোষাধ্যক্ষ অভিজিৎ মন্ডল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।। অনুষ্ঠান শুরু করা হয় বৃক্ষরোপণ এর মাধ্যমে ।বক্তব্য পেশ করতে এসে AINBOF এর সর্বভারতীয় সম্পাদক সঞ্জয় দাস অভিবাদন করেন সভায় উপস্থিত প্রায় ২৫০০ স্বনির্ভর মহিলাদের যারা সরকারি ব্যাঙ্ক এর থেকে স্বল্প সুদে,সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং নিজের পরিবার তথা গ্রাম এর অর্থনৈতিক উন্নতি তে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও বলা হয় এবং দেশ কিভাবে সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে আজ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বাবলম্বী তথা আত্মনির্ভর হয়েছে সে কথাও আলোচনা করা হয়।সভা থেকে তারা স্লোগান তোলেন সরকারি ব্যাঙ্ক বাঁচাও,গ্রাম বাঁচাও,দেশ বাঁচাও। ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক( BDO) বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া তথা সরকারি ব্যাংকের ভুয়সী প্রশংসা করেন। ব্যাঙ্ককে রক্ষা করতে তারা ব্যাঙ্ক কর্মী দের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে লড়াই করবেন এবং তাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও যদি সরকার বেসরকারিকণের নীতি নেন তবে এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা গ্রামে গ্রামে গর্জে উঠবেন। সঞ্জয় দাস মনে করিয়ে দেন যে সরকারি ব্যাঙ্ক এর মাধ্যমেই দেশের কৃষক আজ আর্থিক উন্নতি করেছে এবং দেশ খাদ্য উৎপাদনে বিশ্বশীর্ষে উঠে এসেছে যার পরিণতি WTO সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী গোটা বিশ্বের ক্ষুদানিবৃতির ভার নিতে স্বাবলম্বী বলে অঙ্গীকার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর সামনে যেখানে একসময় এই আমেরিকার সাথে ভারত PL 480 চুক্তিতে খাদ্য আমদানি করত।

দেশের এই সবুজ,হরিৎ,দুগ্ধ বিপ্লবে সরকারি ব্যাঙ্ক এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।সরকার এর সমস্ত জনমুখী প্রকল্প রূপায়ণে সরকারি ব্যাঙ্ক অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে আজও এই জাতীয়কৃত ব্যাঙ্কগুলিই একমাত্র ভরসা। সঞ্জয় দাস ও তরুণ সাহা বলেন বেসরকারিকরণের নীতি সমগ্র জাতীয় অর্থনীতির উপর বড় আঘাত। কারণ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শুধু সরকারি ব্যাংক এর শাখাই আছে । মাননীয়া অর্থমন্ত্রী গত budget এ দুটি ব্যাঙ্ক বেসরকারি করণের যে অঙ্গীকার করেছেন তা পার্লামেন্ট এর শীতকালীন অধিবেশনে পেশ করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা।সংগঠনের জনগন কে সাথে নিয়ে আন্দোলন এর প্রভাবে পার্লামেন্ট এর গত সেশনএ এই বিল পেশ না করলেও আবার তার প্রচেষ্টা শুরু হতে পারে। আর এখানেই প্রশ্ন দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড এই সরকারি ব্যাঙ্ক এর বিনাশের জন্য কেনো বারংবার বেসরকারিকরণের বেড়াল কেন্দ্রীয় সরকার কে ঝুলি থেকে বার করতে হচ্ছে।

ক্রমাগত মুনাফা বৃদ্ধি হওয়া সত্বেও সরকার জাতীয়কৃত ব্যাংক গুলিকে বেসরকারিকরণ করার নীতি নিতে চলেছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মুষ্টিমেয় এক শ্রেণীর ধনী থেকে ধনীতর এবং দরিদ্র আরো দরিদ্র হচ্ছে।এই আর্থিক বৈষম্য দূর করতে ব্যাঙ্ক সরকারি মালিকানা তে থাকা খুব প্রয়োজন বলে মনে করেন গ্রামের মানুষজন।