ওয়েব ডেস্ক; ৩ জুন: “আমাদের অমৃতকালে উন্নত দেশ হয়ে ওঠা আমাদের লক্ষ্য, সেহেতু আমাদের নাগরিকদের স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠা জরুরি। সুস্থ নাগরিক শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন করে।” উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে অত্যাধুনিক ন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টার ফর ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)-র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডঃ মনসুখ মান্ডভিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এস পি সিং বাঘেল, অসামরিক পরিবহন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জেনারেল ডঃ ভি কে সিং।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শ অনুযায়ী সুস্থতা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ভারতের চিরাচরিত খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রাকে গ্রহণ করতে হবে কারণ ‘আমাদের রান্নাঘরই আমাদের হাসপাতাল’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভালো গুণমানের পুষ্টিকর খাদ্য অসুস্থতাকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে।” ডঃ মান্ডভিয়া স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা বিষয়ে ভারতের মূল্যবান ঐতিহ্যের কথা বলেন, সে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবাই হোক, মিলেটের ব্যবহারই হোক অথবা যোগাভ্যাসই হোক। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সুস্থতা এবং জীবনযাত্রার ধরনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “যেসব মানুষ এফএসএসএআই-র জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত হবেন তাঁরা দেশে স্বাস্থ্যবান নাগরিক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন। কারণ তাঁরাই দেশে খাদ্যের উচিত গুণমান নিশ্চিত করবেন।”

দেশে খাদ্যে ভেজালের কথা বলতে গিয়ে ডঃ মান্ডভিয়া বলেন যে এফএসএসএআই রাজ্য প্রশাসনগুলির সঙ্গে মিলে ভেজালের মোকাবিলায় দল গঠন করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দেশে খাদ্যে ভেজাল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবেনা। তিনি বলেন, দেশজুড়ে পরীক্ষা চালানো হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে খাদ্য সুরক্ষা এবং মান আইন ২০০৬এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে “লোক স্বস্থ অর্পণ ভবন” হিসেবে বর্ণনা করে অধ্যাপক এস পি বাঘেল বলেন যে, এফএসএসএআই দেশে খাদ্যের মান রক্ষায় বড়সড় দায়িত্ব পালন করছে যা প্রত্যেকের জীবনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে আমাদেরও দায়িত্ব যেটা আমরা খাচ্ছি সেটা সঠিক মানের খাদ্য কি না তা নিশ্চিত করা।

এই অনুষ্ঠানে এফএসএসএআই-এর তৈরি একটি ই-লার্নিং অ্যাপেরও সূচনা হয়েছে। ডঃ মান্ডভিয়া এফএসএসএআই-এ দুটি বইয়ের প্রকাশ করেন। একটি বই হল মিলেট (শ্রীঅন্ন) রেসিপি আ হেলদি মেনু ফর মেস/ক্যানটিন এবং অন্য বইটি হল হেলদি গাট, হেলদি ইউ-ট্র্যাডিশনাল রেসিপিস উইথ পোটেনসিয়াল প্রো বায়োটিক বেনিফিটস।